spot_img

ভারতের আফগান দূতাবাসে ইমারাতে ইসলামিয়ার বিজয় দিবস উদযাপন

ভারতে আফগান ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের বিজয়ের পঞ্চম বার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে স্বাগতিক দেশ ভারতের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন। ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে সার্বিয়ার প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ফিলিস্তিন, রাশিয়া, চীন, ইরিত্রিয়া, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান, নাইজার, কাতার ও ওমানের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসে ইমারাতে ইসলামিয়ার বিজয়ের পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ভারতে নিযুক্ত আফগানিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স নূর আহমদ নূর বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে আরও দৃঢ় রাজনৈতিক আস্থা, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব এবং অব্যাহত যোগাযোগ শুধু দুই দেশের জন্যই সুফল বয়ে আনবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সংযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

তিনি বলেন, আফগানিস্তান ভারতের সঙ্গে আরও গভীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। দেশটির পররাষ্ট্রনীতি ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততা ও হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। একই সঙ্গে কাবুল বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ইতিবাচক, গঠনমূলক, বাস্তবসম্মত ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।

নূর বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেড়েছে। দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো আরও সক্রিয় হয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল একে অপরের রাজধানী সফর করেছে।

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আফগানিস্তানের প্রাচীন শহর কাবুল, হেরাত ও কান্দাহার ভারতীয় ব্যবসায়ী ও কাফেলাগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি ও লাহোরের মতো ভারতীয় শহরগুলো আফগান আলেম, কবি ও সুফিদের প্রভাব থেকে উপকৃত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “এটাই আমাদের অভিন্ন অতীত, যেখান থেকে আমরা একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ার অনুপ্রেরণা গ্রহণ করি।”

আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে আফগানিস্তানের অধিকার সমর্থন করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নূর বলেন, “আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে আফগানিস্তানের বৈধ আন্তর্জাতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর তারা যে গুরুত্বারোপ করেন, আমরা তার প্রশংসা করি। আমরা আশা করি, এ বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে এবং বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা শুধু আফগানদের জন্যই একটি সাফল্য নয়; এটি পুরো অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাণিজ্য, জ্বালানি, ট্রানজিট ও নিরাপত্তার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।”

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ইরান বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব আনন্দ প্রকাশও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ইমারাতে ইসলামিয়াকে স্বীকৃতি দেয়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বেড়েছে।

সূত্র: আরিয়ানা নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ