জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তান। দেশটির মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ইমারাতে ইসলামিয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে পাকিস্তানের যে দাবি, তা আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল।
একই সঙ্গে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহারের বিষয়ে ইসলামাবাদের বারবার করা অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর দোষ চাপানোর পরিবর্তে পাকিস্তানকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আফগান মুখাপাত্র।
সোমবার (১৭ আগস্ট) টোলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, পাকিস্তানই ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধ ও নিরাপত্তাহীনতায় ইন্ধন জুগিয়ে আসছে। এখন ওই দেশেই দায়েশকে লালন-পালন করা হচ্ছে এবং আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমনকি ‘আমাদের পলাতক গোষ্ঠীগুলোও’ পাকিস্তানে জড়ো হয়। সেখানে তাদের আমাদের বিরুদ্ধে উসকে দেওয়া ও সংগঠিত করা হয়।”
এর আগে জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিখার আহমদ দাবি করেন, আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার নিজেদের প্রতিশ্রুতি যথাযথভাবে পূরণ করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে।
একটি আরব গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “প্রধান প্রত্যাশাগুলোর মধ্যে ছিল প্রথমত, আফগানিস্তানে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা; দ্বিতীয়ত, মানবাধিকারের প্রতি, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখানো; এবং তৃতীয়ত, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আফগান ভূখণ্ড যেন কোনো প্রতিবেশী দেশ বা অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “গত পাঁচ বছরের পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যাবে, এই তিনটি ক্ষেত্রের কোনোটিতেই শুধু অগ্রগতি হয়নি তা নয়, বরং তিনটি ক্ষেত্রেই পিছিয়ে যাওয়া হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চললেও দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত।
সূত্র: তোলো নিউজ










