spot_img
spot_img

লাইভ ডিবেটে ইসরাইলী স্কলারদের নিশ্চুপ করে দিলেন সাংবাদিক মেহেদি হাসান

স্ব স্ব ক্ষেত্রে পণ্ডিত বা বিশেষজ্ঞ বলে বিবেচিত ইসরাইলী সাংবাদিক, লবিস্ট ও আইনজীবীদের লাইভ ডিবেট বা সরাসরি বিতর্কে নিশ্চুপ করে ছাড়লেন প্রখ্যাত সাংবাদিক মেহেদি হাসান।

সোমবার (১৭ জুন) “জায়োনিস্ট বিদ্বেষ মানে সেমিটিক বিদ্বেষ কি না” এই বিষয়ে  লাইভ ডিবেটের আয়োজন করে ‘মাংক ডিবেটস’ নামক কানাডিয়ান একটি প্রতিষ্ঠান।

ইসরাইলের হারেৎজ পত্রিকার প্রসিদ্ধ ইহুদি সাংবাদিক গিডিওন লেভি, লবিস্ট ডগলাস ম্যুরেই ও আইনজীবী নাতাশা হাউসডোর্ফের বিপরীতে বিতর্কের জন্য মেহেদি হাসানকে আমন্ত্রণ জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে মেহেদি হাসানকে বিরোধী পক্ষের ধারণা ও যুক্তি খন্ডন করতে দেখা যায়।

তার অংশের বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, আন্তর্জাতিক ন্যায় আদালত, ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফ, ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অক্সফাম, ক্রিস্টিয়ান এইড সকলের তথ্য ও বক্তব্যকে আপনারা ভুয়া বলছেন!
আপনারা এখানে বসে নেতানিয়াহুর পক্ষে সাফাই গাইতে অক্সফামের মতো সংস্থাকে ভুয়া বলছেন। এমন কি হলো যে, অক্সফামের মতো নিজেদের সংস্থাকেও আপনাদের ভুয়া বলতে হচ্ছে? আপনারা নিজেদের ব্যাপারে কি বলতে চান?

আপনি যা বলেছেন আমাকে এই ব্যাপারে বলতে দিন। আপনারা আমাকে প্রোপাগাণ্ডার খন্ডন করতে বলেছেন।

প্রথমত, আপনারা নিজেরাই এখনো ইসরাইলী প্রোপাগাণ্ডা ধরতে পারেননি। আপনারা মাত্রই যা বললেন, ইসরাইল সরকারের নিজস্ব সিকিউরিটি এজেন্সি শিন বেট সে ব্যাপারে তদন্ত করেছে। তদন্তের পর তারা বলেছিলো, “না, আমরা কোনো প্রমাণ পাইনি যে, গাজ্জা থেকে কাজ করতে যাওয়া কর্মীরা ৭ অক্টোবরের ঘটনার সাথে জড়িত ছিলো। ” আহ! এখন বলুন তো, শিন বেট কি মিথ্যা বলছে?

এরপর তিনি উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্য করে বলেন, দেখুন, তারা ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেটকে ভুয়া বলছে। বুঝতে পেরেছেন?

আচ্ছা, আমাকে আমার নির্ধারিত আলোচনা শেষ করতে দিন। আপনারা আপনাদের বক্তব্যের জন্য ৫ মিনিট পেয়েছেন।

শিন বেট তো গেলো। এখন আপনাদের বিস্তৃত পরিসরের দাবীর ব্যাপারে বলছি। ডগলাস এবং নাতাশা চান শুধুমাত্র ৭ অক্টোবরকে ঘিরেই আজকের পুরো বিতর্ক হোক।

আমি মানছি যে, ৭ অক্টোবর ভীতিকর কিছু ঘটেছিলো। সুতরাং এতে বিতর্কের কিছু নেই। তবে বিতর্ক থেকে যায় জায়োনিজম নিয়ে। কারণ এটি ব্যাপকভাবে আপনাদের বলে থাকে যে, তারা (জায়নিজমের) এবিষয়ে বিতর্কের কিছু দেখে না। যেমনটি গিডিওন লেভি বলেছেন, “কেনো আমাদের একটি রাজনৈতিক মতাদর্শের সমালোচনা করতে দেওয়া হচ্ছে না? অথচ এটি মাত্র ১৫০ বছরের পুরোনো। অসংখ্য ইহুদিও শুরু লগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত এর তুমুল সমালোচনা করে আসছে।”

মেহেদি হাসান আরো বলেন, তারা (জায়োনিস্টরা) আপনাদের বলবে না কেনো তারা (ইহুদিরা) এমনটি করছে। তাই তারা শুধু ৭ অক্টোবরে সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ করাচ্ছে। যাক, এটিও ভালো। কিন্তু আপনারা (শ্রোতারা) যদি ৭ অক্টোবরে দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে চান, তবে ফিলিস্তিনিদের নিশ্চিহ্ন করে দিতে ৭ অক্টোবরের পর থেকে যা হয়ে আসছে তার প্রতিও মনোনিবেশ করতে হবে।

আজকের বিতর্কে গিডিওন যে ভুয়া বিষয়ের উল্লেখ করলেন, “ফিলিস্তিনিদের কি বা হয়েছে?” (অর্থাৎ ফিলিস্তিনিদের কিছু হয়নি।তারা ইসরাইলীদের ন্যায় হুমকির সম্মুখীন নয়) এটি লজ্জাজনক। আমি অত্যন্ত দু:খের সাথে বলছি, এটি অবশ্যই লজ্জাজনক। আমাকে বলতে হচ্ছে আসলে কি চলছে। ৭ অক্টোবর নিয়ে কথা বলতে হলে প্রতিবার এটি আমি বলবোও বটে যে, তখন থেকে এখন পর্যন্ত কি হয়েছে।

তাদের (জায়োনিস্টদের) দাবী মতে সকলেই মিথ্যাবাদী! হামাসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সকলে মিথ্যাবাদী! আমার এক আমেরিকান ইহুদি ডাক্তার বন্ধু যে গাজ্জায় গিয়েছে সেও মিথ্যাবাদী! শুধু সে নয়, অসংখ্য ডাক্তারও গিয়েছেন গাজ্জায়, যাদের আপনারা সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন। তাদের সকলেও মিথ্যাবাদী! তারা সকলেই হামাসের সদস্য! আমার আমেরিকান বন্ধু যে গাজ্জায় গিয়েছিলো সে সুদান ও আফগানিস্তানেও চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়েছিলো। সে নিজ মতাদর্শের জন্য ডগলাসের ন্যায় স্বার্থপরতার পরিচয় দেয়নি। সে সেখানকার অভিজ্ঞতাকে নিজ মতাদর্শের পক্ষে ব্যবহার করেনি। বরং নিরপেক্ষ রেখেছে। সে সুদানে ছিলো। আফগানিস্তানে ছিলো। সে সেখানে কাজ করেছে। ফিরে এসেছে। গাজ্জা থেকেও ফিরে এসেছে। আর বলেছে, আমি এর আগে কখনোই এমন নৃশংসতা দেখিনি যেমনটি গাজ্জায় বাচ্চাদের সাথে হতে দেখেছি।

এসময় ইসরাইলের পক্ষের আমন্ত্রিত বিতার্কিকদের একজন বলে উঠেন, “আপনি এমনটি বলতে পারেন না। এটি এন্টি সেমিটিজম। ইহুদি বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।”

মেহেদি হাসান তার বক্তব্য অব্যাহত রেখে বলেন, সে মাথায় গুলিবিদ্ধ শিশুর লাশ দেখেছে। দেখেছে মাথায় গুলিবিদ্ধ আহত শিশুকে যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে মারা যেতে। কিন্তু তারা (জায়োনিস্টরা) বলে এটাও হামাসের দোষ! সব দোষই হামাসের।

ইসরাইলের পক্ষের আমন্ত্রিত বিতার্কিক এসময় হ্যাঁ, হ্যাঁ, অবশ্যই বলে সব দোষ হামাসের বলে সাই দেন।

মেহেদি হাসান তার বক্তব্য অব্যাহত রেখে বলেন, এবার যুদ্ধাপরাধের ব্যাপারে কথা বলা যাক। এটা খুবই আশ্চর্যের যে বিশ্বের প্রতিটি মানবাধিকার গ্রুপ এমনকি ইসরাইলের বাইতে সালেম, গিশা ও ইয়েশ দীনও গাজ্জায় ইসরাইলের বর্বরতার প্রমাণ স্বরূপ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। কিন্তু তারা (জায়োনিস্টরা) মনে করে এগুলোর সবই কল্পনাপ্রসূত! এথেকেই বুঝা যায় জায়োনিজম কী? তারা জায়োনিজমের বার্তা দেয়, যা মানুষের বিমূর্ত মতাদর্শের সাথে যায় না। তারা যেকোনো মূল্যে ফিলিস্তিনের ভূমি নিজের করে নিতে চায়। সে ভূমিতে বসতিও স্থাপন করতে চায়। কিন্তু যেমনটি গিডিওন বলেছেন, “এসব যুক্তিসঙ্গত হওয়ার দরকার ছিলো, যা এতে অনুপস্থিত।”

হ্যাঁ, একসময় ১৯৪০, ৩০, ২০ এর দিকে জায়োনিজমের চিত্র এমন ছিলো। তবে আজকের জায়োনিজম ভিন্ন। গাজ্জা, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুসালেম এমনকি স্বয়ং ইসরাইলে দিনে এবং রাতে ফিলিস্তিনিদের প্রতিনিয়ত যা ভুগতে হচ্ছে তাই হলো আজকের জায়োনিজম। ফিলিস্তিনি নিশ্চিহ্ন করণ প্রক্রিয়াই আপনাদের এসম্পর্কে বলে দিবে যে, কেনো ফিলিস্তিনিদের সাথে জায়োনিস্টরা যা করেছে তাকে এন্টি সেমিটিজমের তকমা না দিয়ে সে সম্পর্কে কথা বলা উচিত।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, ডিবেটে উপস্থিত শত শত কট্টর ইসরাইলীদের অনেককে মেহেদি হাসানের বক্তব্য শুনে বিস্ময়ে হতবাক, আবার অনেককে তার সমর্থনে হাত তালি দিতে দেখা যায়।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ