spot_img

বস্ত্রশিল্পকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের হাতিয়ার করতে চায় সিরিয়া: প্রেসিডেন্ট শার’আ

বস্ত্রশিল্পকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের হাতিয়ার করতে চায় সিরিয়া বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমদ আল শার’আ আল জুলানী।

দিনি বলেন, “বস্ত্রশিল্প আমাদের ইতিহাসের একটি অধ্যায়ের প্রতিনিধিত্ব করে। এটি ছিল শাম অঞ্চলের মানুষের কারুশিল্পের নৈপুণ্য ও রুচির প্রতিফলন। এ শিল্পের মাধ্যমে তারা নিখুঁততা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার মূল্যবোধ শিখেছে।”

শনিবার (১৮ জুলাই) দামেস্কের কনফারেন্স প্যালেসে ন্যাস্টেক্স ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমদ শার’আ বলেন, বস্ত্রশিল্প সিরিয়ার ইতিহাসের একটি অধ্যায়। এটি শাম অঞ্চলের মানুষের কারুশিল্পের নৈপুণ্য ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিকভাবে এ অঞ্চলের বস্ত্র উৎপাদন অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে, বাণিজ্যের পরিধি বাড়িয়েছে এবং সিরিয়াকে বিশ্বের বিভিন্ন বাজারের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, “শাম অঞ্চলের বস্ত্র উৎপাদনের কারুশিল্প ছিল বিশ্বের কাছে একটি জীবন্ত দূত। এটি অর্থনীতি গড়ে তুলতে, বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে, এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যপথ প্রতিষ্ঠা করতে এবং ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের এ অঞ্চলে আকৃষ্ট করতে সহায়তা করেছে।”

সিরীয় প্রেসিডেন্ট বলেন, পুনর্গঠন ও উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণের পাশাপাশি সিরিয়া তার ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, “আজ অনুষ্ঠিত সিরিয়া আন্তর্জাতিক বস্ত্র প্রদর্শনী সিরিয়ার জনগণের জন্য আশা ও সমৃদ্ধির একটি মাইলফলক। একই সঙ্গে এটি দারিদ্র্য ও দুর্দশা মোকাবিলা, পুনর্গঠনে সহায়তা এবং আমাদের জনগণের জন্য হাজার হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির প্রচেষ্টায় একটি সৃজনশীল সূচনা।”

তিনি আরও বলেন, নাগরিক শান্তি, জাতীয় ঐক্য, ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ গড়ে উঠছে। সৃজনশীলতা, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও দক্ষ কারুশিল্পের উৎস হিসেবে দেশটি নিজের ভূমিকা পুনরুদ্ধার করতে চায়।

রেশম ও উন্নতমানের বস্ত্রের পাশাপাশি দামেস্ক ইস্পাতের তলোয়ার তৈরিতে সিরিয়ার ঐতিহাসিক খ্যাতির কথাও তুলে ধরে শার’আ বলেন, শক্তি ও পরিশীলনের এই সমন্বয় সিরীয় কূটনীতির বিভিন্ন দিকের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, “তীক্ষ্ণতা ও কোমলতার মাঝেই সিরীয় কূটনীতির মূল সত্তা নিহিত। দীর্ঘদিন ধরে সিরিয়া যে বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত, তা হলো প্রত্যেককে তার প্রাপ্য দেওয়া।”

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের জনগণ ও বিশ্ববাসীকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমরা শান্তির একটি দৃষ্টিভঙ্গি নির্মাণ করব, সমৃদ্ধির বস্ত্র বুনব এবং যারা আন্তরিক অনুভূতি ও উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের সঙ্গে মিলিত হবে, তাদের জন্য কবিতার পঙ্‌ক্তি রচনা করব।”

প্রসঙ্গত, ন্যাস্টেক্স ২০২৬ প্রদর্শনীর লক্ষ্য হলো, উৎপাদনকারীদের প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও রপ্তানি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে সিরিয়ার বস্ত্র খাতের পুনরুজ্জীবনে সহায়তা করা। প্রদর্শনীটি ১ লাখ ৫০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে ২৫টির বেশি আরব ও আন্তর্জাতিক দেশের ৩০০-এর বেশি প্রদর্শক অংশ নিয়েছেন।

সূত্র: সানা নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ