ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও ট্রানজিটের পথে থাকা বাধাগুলো দূর করতে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ইরানের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে পেজেশকিয়ান বলেন, তেহরান ও কাবুলের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা বর্তমান পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বাড়াতে হবে।
একই সঙ্গে সীমান্তপারের বাণিজ্য ও লেনদেন আরও সহজ করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯ আগস্ট বুধবার ইরানের বিরুদ্ধে “সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান” ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তেহরানকে অর্থনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বজায় রাখা দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতির হুমকি দেন।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ২০ আগস্ট ইরানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের এই অবস্থান সামনে আসে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরানের কৃষিমন্ত্রীর আফগানিস্তান সফর নিয়েও একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়, আফগান পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণকে স্বাগত জানিয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
এদিকে আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের উপপ্রধানের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরান চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রিজ, মাইনস অ্যান্ড এগ্রিকালচারের ভাইস প্রেসিডেন্ট গাদির গিয়াফেহ দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি যৌথ বিনিয়োগ তহবিল গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
তিনি বলেন, সহায়ক আইন ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ইরান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গাদির গিয়াফেহ বলেন, “আজ আমরা আফগানিস্তানের অবকাঠামো খাতে নতুনভাবে উপস্থিত হতে পারি। অবকাঠামো ছাড়া দেশটির খনি উন্নয়ন ও খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ অবশ্যই নাগালের বাইরে থেকে যাবে। এসব কিছু বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন, যাতে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আমরা অন্তত ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য অর্জন করতে পারি।”
অন্যদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ চেম্বারের নির্বাহী বোর্ডের প্রধান ওয়াসিম সাফি ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমাদের প্রস্তাব হলো, ইরান বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করুক। এর মধ্যে রয়েছে বিদেশে চাষাবাদ এবং আফগান পণ্য থেকে তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ। উন্নত বীজ এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কাছে থাকা কারিগরি দক্ষতা আফগানিস্তানে হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও আমরা সহযোগিতা চাই।”
ইরানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের এই বার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন তেহরানের ওপর আমেরিকার অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হচ্ছে।
সূত্র : টোলো নিউজ










