দখলদার ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি সরকারের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির ও একদল অবৈধ বসতিস্থাপনকারী পুলিশের সুরক্ষায় পবিত্র আল-আকসা মসজিদে হানা দেওয়ার ঘটনায় আরব ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংগঠন তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
তারা সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের হানা আল-আকসা মসজিদ ও কুদসের ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা। এর ফলে অঞ্চলটিতে আরও উত্তেজনা ও সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
মিসর দখলদার সরকারের এক কর্মকর্তা ও একদল বসতিস্থাপনকারী পুলিশের সুরক্ষায় পবিত্র আল-আকসা মসজিদে হানা দেওয়ার ঘটনায় কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
মিসর বলেছে, এটি ইসলামী পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘন এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার শামিল। এর ফলে আরও উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পবিত্র আল-আকসা মসজিদে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থার প্রতি সম্মান জানানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। একই সঙ্গে কুদসের ইসলামী ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর হাশেমি অভিভাবকত্বকে সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, শহরটির আরব ও ইসলামী পরিচয় পরিবর্তন অথবা এর পবিত্র স্থানগুলোতে নতুন কোনো বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকতে হবে। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা প্রশমন ও স্থিতিশীলতার সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন একতরফা পদক্ষেপ বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে।
মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগও দখলদার সরকারের এক কর্মকর্তা ও একদল বসতিস্থাপনকারী দখলদার বাহিনীর সুরক্ষায় আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে হানা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব ও মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের স্কলার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান শায়খ ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল-ঈসা এসব উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অনুভূতিকে আরও উত্তেজিত করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইন ও রীতিনীতির বারবার লঙ্ঘন অবিলম্বে বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এর আগে সৌদি আরবও আল-আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে হানা দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছিল। দেশটি দখলদার কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে করা উসকানিমূলক ও প্ররোচনামূলক কর্মকাণ্ড প্রত্যাখ্যানের কথা জানিয়েছে।
এদিকে কাতার জানিয়েছে, দখলদার সরকারের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির এবং অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের আল-আকসা মসজিদে হানা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের অনুভূতিতে উসকানি দেওয়ার শামিল। কাতার সতর্ক করেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে অঞ্চলটিতে আরও সহিংসতা ও উত্তেজনা বাড়তে পারে এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
জর্ডানও আল-আকসা মসজিদে নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া অথবা এর ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থার ওপর হস্তক্ষেপের যেকোনো প্রচেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করেছে। দেশটি জোর দিয়ে বলেছে, জেরুজালেম ও এর ইসলামী ও খ্রিস্টান পবিত্র স্থানগুলোর ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ হানাকে আল-আকসার ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর পবিত্রতার অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অন্যদিকে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা পরিষদও এ হানার নিন্দা জানিয়েছে। পরিষদ বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে এসব লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এ প্রেক্ষাপটে ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসও আল-আকসা মসজিদে হানার নিন্দা জানিয়েছে। হামাস বলেছে, দখলদার সরকারের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভিরের আল-আকসা মসজিদে হানা এবং এর প্রাঙ্গণে তালমুদিক ধর্মীয় আচার পালন মসজিদটির পরিচয় ও মর্যাদার ওপর হামলার শামিল। একই সঙ্গে এটি ফিলিস্তিনি জনগণ এবং আরব ও ইসলামী বিশ্বের মানুষের অনুভূতিতে উসকানি দিচ্ছে।
হামাস আল-আকসা মসজিদ ও জেরুজালেমে হানা ও লঙ্ঘন বেড়ে যাওয়ার বিরুদ্ধে মোকাবিলায় ফিলিস্তিনি, আরব ও ইসলামী বিশ্বের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। হামাস জোর দিয়ে বলেছে, এসব কর্মকাণ্ড আল-আকসা মসজিদের ওপর নতুন বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়া এবং এর ঐতিহাসিক ও আইনগত অবস্থান পরিবর্তনের প্রচেষ্টার অংশ।
সূত্র : শিহাব নিউজ এজেন্সি











