গাজ্জা উপত্যকার বসতিপূর্ণ ভবনে বাসিন্দাদের সরিয়ে না নিয়েই ভারী বোমা হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে। ইসরাইলি সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের চার সদস্যের দেওয়া সাক্ষ্যে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। সাক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর গাজ্জায় হামলার ক্ষেত্রে বেসামরিক প্রাণহানির বিষয়ে ইসরাইলি বাহিনীর নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ভারী অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয় এবং বেসামরিকদের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও হামলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবরের একটি হামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই হামলায় হামাসের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ইব্রাহিম বিআরিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সাক্ষ্য অনুযায়ী, তিনি আবাসিক ভবনগুলোর নিচে অবস্থান করছেন বলে ইসরাইলি বাহিনী জানত। তবে নির্দিষ্ট ভবন শনাক্ত করতে না পারলেও তাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিতে ভবনগুলো ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
হামলার আগে সামরিক গোয়েন্দা হিসাবে সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানির সংখ্যা ২৫০ থেকে ৩০০ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এই আশঙ্কার পরও হামলার অনুমোদন দেওয়া হয় বলে সাক্ষ্যে বলা হয়েছে।
আরেকটি ঘটনায় ২০২৩ সালের ১৩ অক্টোবর হামাস কমান্ডার আলী কাদিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই সময় তিনি পরিবারের সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন। সাক্ষ্য অনুযায়ী, কাদি হামলা থেকে বেঁচে গেলেও তার পরিবারের সদস্যরা নিহত হন এবং নিহতদের সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুর কোনো সম্পর্ক ছিল না।
এ ছাড়া ইসরাইলি ড্রোন ইউনিটের এক সদস্য জানান, এমন হামলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল যেখানে সর্বোচ্চ ২০ জন বেসামরিক আহত হতে পারেন বলে ধারণা করা হয়েছিল। এসব হামলার জন্য টার্গেটিং সেলের বাইরে কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অনুমোদনের প্রয়োজন হতো না।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী অবশ্য জাবালিয়ার ওই হামলার বিষয়ে দাবি করেছে, বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হামলার পরিকল্পনা কয়েকবার পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং সম্ভাব্য হতাহতের সংখ্যা শত শত হবে বলে তাদের ধারণা ছিল না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজ্জায় ইসরাইলি হামলায় ৭৪ হাজার ৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪০০-এর বেশি আহত হয়েছেন।
সূত্র: হারেৎজ, মিডল ইস্ট মনিটর











