বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতার বিষয়ে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এর আওতায় সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) আলজেরিয়া থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়ার্সে বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং আলজেরিয়ার পক্ষে দেশটির হাইড্রোকার্বনমন্ত্রী মোহামেদ আরকাব সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় হাইড্রোকার্বন খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো তৈরি হবে। এর মধ্যে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন, পরিবহন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন, সংশ্লিষ্ট প্রকল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিনিয়োগের সুযোগ খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য, এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ইউরিয়াসহ সার সরবরাহের বিষয়ও সহযোগিতার আওতায় রাখা হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশে এলএনজি ও এলপিজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং তেল, গ্যাস ও কয়লা অনুসন্ধানের বিষয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অভিজ্ঞতা ও তথ্য বিনিময়, কারিগরি গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের বিষয়ে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ আলজেরিয়ার জ্বালানি খাতের অভিজ্ঞতা ও কারিগরি জ্ঞান কাজে লাগাতে বাংলাদেশি প্রকৌশলী ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের জন্য জ্ঞান বিনিময় ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের অনুরোধ জানান।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সন্তোষ প্রকাশ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। জিটুজি ব্যবস্থায় আফ্রিকার বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
সমঝোতা স্মারকের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশ একটি যৌথ পরিচালনা কমিটি গঠনে সম্মত হয়েছে। কমিটি সহযোগিতার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, প্রস্তাবিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে আলজেরিয়া থেকে এলএনজি, এলপিজি ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির নতুন পথ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বাংলাদেশে কয়লা ও গ্যাস অনুসন্ধানে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।











