spot_img
spot_img

রংপুর জেলা কমিটি ঘোষণা করল খতমে নবুওয়ত

মাওলানা রেজাউল করিমকে সভাপতি ও মাওলানা মাহমুদুর রহমানকে সেক্রেটারি করে ৩৪ সদস্য বিশিষ্ট রংপুর জেলা কমিটি ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ।

আজ রোববার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০ ঘটিকায় কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে রংপুর সদরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা এদারা জুম্মাপাড়া মাদরাসায় হাফেজ মাওলানা ইদরিস এর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভায় এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।

সভাপতি তার বক্তব্যে বলেন, হাটহাজারীর হজরতের নেতৃত্বে রংপুর বিভাগের উলামায়ে কেরাম তাহাফফুজে খতমে নবুওতের ব্যানারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে ইনশাআল্লাহ। আমরা অতীতেও ইসলামের জন্য রক্ত দিয়েছি। ভবিষ্যতেও কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিবো।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আযহারী, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা রাশেদ বিন নূর এবং সহকারী প্রচার সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ।

সভায় রংপুর বিভাগে একটি আহবায়ক কমিটি করা হয় এবং বাকি ৭টি জেলায় (কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট) আহবায়ক কমিটিও গঠন করা হয়। এ সময় আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২২ ইং এর মধ্যে সকল আহবায়ক কমিটিগুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ একটি অরাজনৈতিক ও ঈমানী সংগঠন। খতমে নবুওত ও তাহাফফুজে খতমে নবুওত-এর অর্থ হল, আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আলাইহিস সালাম-এর মাধ্যমে নবুওত ও রিসালাতের যে পবিত্র ধারা শুরু করেছেন হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পৃথিবীতে প্রেরণের মাধ্যমে সেই ধারাকে সমাপ্ত করেছেন। এই সমাপ্তি হেফাজত করার নামই তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত। বর্তমানে কাদিয়ানিরা খতমে নবুওয়তের ব্যাপারে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা ইলেকট্রনিক্স, প্রিন্ট এবং অনলাইন মিডিয়ার কল্যাণে তাদের মিথ্যা দাবি-দাওয়া প্রচার করে সাধারন মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। কাদিয়ানীদের সকল অপপ্রয়াস বন্ধ করতে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সেই লক্ষ বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা সারা দেশব্যাপী তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করছি। আজ রংপুরে খতমে নবুওয়তের যেই কমিটি গঠন করা হলো, আমি তাদের উত্তরোত্তর কল্যাণ কামনা করছি। আল্লাহ তাদের কাজ সহজ করুন, কবুল করুন, আমীন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন জুম্মাপাড়া মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা ইউনুস। তিনি বলেন, রংপুরের মাটি ইসলামী আন্দোলনের অন্যতম ঘাটি। ইতিপূর্বে ইসলামের যে কোনো তাক্বাযায় রংপুরের উলাময়ে কেরাম ও ইসলাম প্রিয় তৌহিদী জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের জান-মাল কুরবানী করে ইতিহাস লেখেছেন। ইনশাআল্লাহ আগামীতেও এই ধারাবাহিকতায় তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের ব্যানারে আমরা কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো। আজকের সভায় কেন্দ্রীয় যে সকল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়েছেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে খবর পেয়ে রংপুর বিভাগের সকল জেলা থেকে যে সকল আলেম উলামা এসেছেন, তাঁদের সকলকে জানাই আন্তরিক মুবারকবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী তার বক্তব্যে বলেন, তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের সভাপতি আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে আজ আমরা রংপুর জেলা কমিটি গঠন করেছি এবং রংপুর বিভাগীয় একটি আহবায়ক কমিটি ও বাকি ৭টি জেলায় (কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট) আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করেছি। এই তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ সংগঠনটি আমাদের আকাবীর আসলাফদের আমানত ও ঈমানী কাজ। ইনশাআল্লাহ আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের বড়দের রেখে যাওয়া আমানত রক্ষায় এবং ঈমানী দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট থাকবো।

মুফতী কিফায়াতুল্লাহ আযহারী তার বক্তব্যে বলেন, গত ২৭ আগষ্ট রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত কাজী বশির মিলনায়তনে কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবীতে উলামা মাশায়েখ ও প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। সেই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল- আগামী ৬ মাসের মধ্যে সারাদেশের সকল জেলা কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হবে। সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার লক্ষে আজকের এই আয়োজন। আমরা এক এক করে সারাদেশের কমিটিগুলো পুনর্গঠন করবো ইনশাআল্লাহ।

এ সময় মাওলনা মাহমুদুর রহমান এর সঞ্চালনায় রংপুর বিভাগের শীর্ষ উলামাদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন, মাওলানা রেজাউল করিম, মাওলানা খলিলুল্লাহ, মাওলানা আমিনুল্লাহ, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মুফতী শামসুদ্দীন কাসেমী, মাওলানা জামালউদ্দীন, মাওলানা মাহমুদুল আলম, মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী, মাওলানা আব্দুল বাসেত’সহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ