ভারতের আসামে বাঙালি মুসলিমদের বাড়িঘর উচ্ছেদ ও মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদে রাজধানী ঢাকায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। এ সময় বক্তারা ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন বন্ধ, সীমান্তে বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে মুসলিমদের পুশ-ইন বন্ধ এবং তাঁদের নাগরিক ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরও শক্ত ও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক তাহমীদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ভারত আমাদের অসাম্প্রদায়িকতার সবক দিতে আসে। ভারতের হিন্দুত্ববাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, যাদের কাছে কোনো সংখ্যালঘুই নিরাপদ নয়, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের কোনো সার্টিফিকেটের প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, ভারত এই অঞ্চলের নতুন ইসরাইলে পরিণত হয়েছে। দেশটি বর্ণবাদী নীতি ব্যবহার করে ইসরাইলি কায়দায় জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভারতের তাবেদারি বন্ধ করে সীমান্তে পুশ-ইন এবং বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে মুসলিমদের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দাবি জানান। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, ঢাকা পৃথিবীর সব নিপীড়িত ও নির্যাতিত জাতির কণ্ঠস্বর হয়ে উঠবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি হাসিবুল ইসলাম বলেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদের কালো ছায়া থেকে ভারতের মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান ও নিম্নবর্গের দলিতদের রক্ষা করতে হবে। সংখ্যালঘু দমনে বর্তমান বিজেপি সরকার ইসরাইলের কৌশল অনুসরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসামের পরিস্থিতি তুলে ধরে হাসিবুল ইসলাম বলেন, আসামে মুসলমানদের বাড়িঘর ও মসজিদ ভাঙচুরের মাধ্যমে ভারতের মুসলমানদের বাংলাদেশ সীমান্তে পুশ-ইন ও গণহত্যার নীলনকশা তৈরি করা হচ্ছে। বিজেপি সরকার মুসলিম নির্যাতন বন্ধ করে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে বিজেপি সরকারের বর্ণবাদী আচরণের প্রতিবাদে ভারতের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জিকে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মানববন্ধনে বক্তারা ভারতের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, ভিন্নমতের মানুষের ভোটাধিকার হরণ এবং জাতিগত নিপীড়ন অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। তাঁদের অভিযোগ, ভোট ম্যানিপুলেশনের মাধ্যমে ভিন্নমতের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে ভারতের সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তে পুশ-ইন এবং বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের নীরব থাকা কোনোভাবেই উচিত নয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নতজানু নীতি পরিহার করে জাতিগত নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে হবে এবং কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হবে।
জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আইয়াম (রাইয়ান)-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জহির রায়হান রিপন এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাঈম আবেদীন। এ সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।











