ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে গত সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার হাসিনা গত ৫ আগষ্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। তার লাল পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যাওয়ায় ভারতের ভিসা নীতি অনুযায়ী তিনি আর মাত্র ২৫ দিন বৈধভাবে সেখানে অবস্থান করতে পারবেন
আজ শনিবার (২৪ আগস্ট) ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে লিখেছে, যেহেতু হাসিনার লাল পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে; তাই (নিয়ম অনুযায়ী) তার ভারতে অবস্থানের সময় ফুরিয়ে আসছে।
ভারতের ভিসনীতি হলো, যেসব বাংলাদেশির কাছে কূটনীতিক লাল পাসপোর্ট আছে তারা ভিসা ছাড়াই ভারতে প্রবেশ এবং সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত অবস্থান করতে পারেন। এরই মধ্যে হাসিনাসহ তার সরকারের সকলের কূটনীতিক লাল পাসপোর্ট বাতিল করেছে বাংলাদেশ সরকার। ইতোমধ্যে তিনি ভারতে ২০ দিন কাটিয়ে ফেলেছেন। পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী আর মাত্র ২৫ দিন বৈধভাবে ভারতে অবস্থান করতে পারবেন হাসিনা। এরপর তিনি হয়ে যাবেন অবৈধ।
হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, কূটনীতিক পাসপোর্ট বাতিল হওয়ায় শেখ হাসিনার ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। হাসিনার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫১টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪২টি হত্যা মামলা। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হবে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়টি ২০১৩ সালে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তির মধ্যে পড়বে। ২০১৬ সালে চুক্তিটি সংশোধন করা হয়। এতে বলা হয় রাজনৈতিক বিবেচনায় করা মামলার আসামী হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ বা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানানো যাবে। কিন্তু এই চুক্তিতে হত্যা মামলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে রাজনৈতিক বিবেচনার বাইরে রাখা হয়েছে।
এছাড়া যদি মামলা ‘ন্যায়বিচার না করার উদ্দেশ্যে করা হয়’ তাহলেও দুই দেশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রত্যর্পণ না করার ক্ষেত্রে অস্বীকৃতি জানাতে পারে।
বাংলাদেশ সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, শেখ হাসিনা যখন দেশ থেকে পালান তখন তার কাছে শুধুমাত্র লাল পাসপোর্টই ছিল। সাধারণ সবুজ পাসপোর্ট ছিল না।











