বুধবার | ২১ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

যে যুক্তি দেখিয়ে গাজ্জায় নিজেদের ১২ নাগরিককে হত্যা করলো ইসরাইল

গাজ্জায় ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের হাতে আটক থাকা নিজেদের ১২ নাগরিককে হত্যা করেছে বিশ্ব মানবতার শত্রু ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল।

সম্প্রতি আমেরিকান দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস এনিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, ৭ অক্টোবর থেকে গাজ্জায় শুরু হওয়া যুদ্ধে এর আগে ভুল বশত নিজ সেনা ও নাগরিকদের হত্যা করা হলেও সম্প্রতি জেনে বুঝে ১২ ইসরাইলী জিম্মিকে হত্যা করেছে ইসরাইল। অভিযানটি পরিচালনায় ‘হানিবল প্রটোকলের’ আশ্রয় নেয় এতে অংশগ্রহণকারী ইসরাইলী কমান্ডার ও সেনারা, যা ২০১৬ সালে ইসরাইলী আর্মি চিফ অফ স্টাফ গাদি আইসেনকোট বাতিল করে দিয়েছিলেন।

বন্দীদের উদ্ধার না করে উল্টো গাজ্জা গণহত্যা জারি রাখায় আগ থেকেই ইহুদিবাদী ইসরাইলের নাগরিকেরা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছিলেন। তার সাথে এমন নিষ্ঠুর ঘটনা যুক্ত হওয়া ইসরাইলীদেরকে আরো ব্যাপকভাবে নেতানিয়াহুর সরকার বিরোধী করে তুলে। এর প্রেক্ষিতে অবৈধ দেশটির সাবেক বিরোধী নেতা লেবার পার্টির শেলি ইয়াচিমোভিচ তার এক্স একাউন্টে এক বার্তায় নেতানিয়াহু ও ইসরাইলী সেনাবাহিনীর কড়া সমালোচনা করেন। প্রকৃতই ‘হানিবল প্রটোকল’ ব্যবহার করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে নাকি আইনের তোয়াক্কা না করে স্বেচ্ছায় তাদের হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা তদন্তের দাবী জানান।

‘হানিবল প্রটোকল’ হলো ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী প্রণীত একটি আইন, যেখানে শত্রুর হাতে আটক সেনা কিংবা ইসরাইলীদের জীবিত রাখার চেয়ে মেরে ফেলাকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। ১৯৮৬ সালে এর খসড়া তৈরি হলেও ২০১৬ সালে এসে তা বাতিল করে দেওয়া হয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সাবেক ইসরাইলী নেতা ইয়াচিমোভিচের বরাতে বলা হয় যে , ইসরাইলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হিরাম হামাসের বিপরীতে নিজ ব্যর্থতা মেনে নিতে না পেরে কিবতুজ বি’ইরীর এক বাড়িতে ইসরাইলী জিম্মি থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরও কামান দাগানোর নির্দেশ দেন। জিম্মিদের জীবিত রাখার চায়তে মেরে ফেলাকেই তিনি প্রাধান্য দেন, যা নিষ্ঠুর ও অমানবিক ‘হানিবল প্রটোকলের’ অনুসরণেরই নামান্তর। তার নিষ্ঠুর এই সিদ্ধান্তে শিশু সহ মোট ১২ ইসরাইলী জিম্মি প্রাণ হারায়।

সূত্র: আনাদোলু

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ