spot_img

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের অঙ্গীকার আজও বাস্তবায়ন হয়নি: মুফতী ফয়জুল করীম

দেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের যে অঙ্গীকার ছিল তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ যে ভিত্তির উপরে সংগঠিত হয়েছিল, সে সকল বিষয়গুলো আজ চরমভাবে উপেক্ষিত। সাম্যের বিপরীতে বেড়েছে বৈষম্য, দিন দিন ঘটছে মানবিকতার চরম অবক্ষয় এবং সামাজিক ন্যায় বিচারের পরিবর্তে সর্বত্র বিচারহীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার ঘোষনাপত্রে ধর্মপেক্ষতার কথা ছিল না। ’৭২ সালে সংবিধানে ধর্মপেক্ষতা সংযোজন করা হয়। ইসলামী শিক্ষাকে তুলে দেওয়ার চেষ্টায় ডারউইনের নাস্তিক্যবাদী মতবাদ নতুনভাবে সংযোজন করা হয়েছে। দেশের প্রধান বিচারপতি ন্যায় পাবে না বলে দেশ ত্যাগ করেন। এটা দেশের জন্য চরম লজ্জাকর বিষয়।

শনিবার (২৬ মার্চ) বিকেলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর পুরানা পল্টনস্থ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মিলনায়তনে দলের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত “স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন”- শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুফতী ফয়জুল করিম বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত অ্যালকোহল বিধিমালা দেশবাসীর জন্য চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বিধিমালার মাধ্যমে চরিত্র বিধ্বংসী ও হারাম মদ-কে পারমিটের মাধ্যমে সহজলভ্য করা হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানদের দেশে এজাতীয় বিধিমালা প্রণয়ন চরম হতাশার ও ঘৃণার। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী একটি গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রার নামে দেশটাকে নর্তকি ও নষ্টামির সাগরে ডুবিয়ে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ঘটনাগুলো থেকে স্পষ্ট হয় স্বাধীনতা পরবর্তী সকল শাসকশ্রেণীর নেতাকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীদের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত। অনেকেই মাদক আইনের আসামী। তাদের বাঁচাতেই সরকার তড়িঘড়ি ও লুকোচুরি করে অ্যালকোহল বিধিমালা জারি করেছে কিনা তা আজ জনমনে প্রশ্নের দাগ কেটেছে। স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবর রহমান নিজেই মাদক দ্রব্যের ব্যাপারে কঠোর ছিলেন, সেখানে উনার কন্যা এখন সরকার প্রধান হয়ে মদের মত হারাম মাদককে সহজলভ্য করে কিভাবে! এটা জাতীর বোধগম্য নয়। অবিলম্বে অ্যালকোহল নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা বাতিল করে মদ সহ সকল প্রকার মাদক দ্রব্যের ব্যাপারে কঠোর আইনের মাধ্যমে আমদানী, সরবরাহ ও বিক্রয় বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, আগামী ৩১ মার্চের জাতীয় মহাসমাবেশ নিয়ে কোন টালবাহানা করলে তার পরিণতি ভালো হবে না। যেখানে বাধা হবে সেখানেই সমাবেশ হবে। কাজেই বিখৃঙ্খলার দিকে না নিয়ে মহাসমাবেশের অনুমতি দিয়ে সরকারের শুভবুদ্ধির পরিচয় দিবে।

সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আহুত আগামী ৩১ মার্চের জাতীয় মহাসমাবেশ সফল করতে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মওলানা ইমতিয়াজ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম আতিকুর রহমান, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, ডা. শহিদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম নাঈম, কেএম শরীয়াতুলস্নাহ, মুফতী ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ