spot_img
spot_img

বিএনপির শক্তি জনগণ, কোনো বাহিনী নয়: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

জনগণই বিএনপির শক্তির উৎস, কোনো বাহিনীনির্ভর দল নয় বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। একই সঙ্গে তিনি দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা কোনো বাহিনীনির্ভর দল নই। আমাদের একমাত্র শক্তির উৎস হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ধোলাইখালসংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠে ঢাকা-৬ আসনের সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতোয়ালি আংশিক ও বংশাল আংশিক এলাকার বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে পুরান ঢাকার মানুষ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। তখন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, পুলিশ, র‍্যাব, এসপি, ডিজিএফআই ও এনএসআইসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা আন্দোলন করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আস্থা রেখে নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সেই দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে। পাশাপাশি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করে বাংলাদেশকে আবারও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার উদ্যোগ কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

বাংলাদেশকে দাস রাষ্ট্রে পরিণত করার দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা বাংলাদেশকে দাস রাষ্ট্র ও প্রজারাষ্ট্রে পরিণত করতে চান। তাঁদের সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্রকে রুখে দেওয়ার অন্য কোনো বিকল্প নাই।

বিরোধী দলের ভূমিকা নেওয়া দলটির সমালোচনা করে ইশরাক হোসেন বলেন, তারা বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হোক, তা চায়নি। বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে এবং মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে।

পলাতক হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাকে ইন্টারপোলের চিঠি দিয়ে বাংলাদেশে আনার জন্য সরকার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে তার কিছু অনুসারীকে অর্থায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইশরাক হোসেন বলেন, এই দুটি দলের মাধ্যমে আমরা একটা যোগসূত্র খুঁজে পাই, যেটি হচ্ছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র।

প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরে স্বৈরাচারের দোসররা এখনো লুকিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে। তবে এসব বিষয়ে তাঁরা ভয় পান না।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে রাজপথে অবস্থান করার মাধ্যমে বাংলাদেশের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে যেকোনো ষড়যন্ত্র দেশের বিরুদ্ধে হোক না কেন, সেটিকে আমরা রুখে দেব।’

ইশরাক হোসেন বলেন, তাঁদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার যে প্রতিজ্ঞা তাঁরা করেছেন, সেটি সফল করবেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনসহ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, কৃষক দল, মৎস্যজীবী দল, মহিলা দল, ওলামা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ