সাইক্লোন সিত্রাংয়ের আঘাতে জয়পুরহাটের রোপা আমন ধান ও আগাম জাতের শীতকালীন সবজির উপকারের পাশাপাশি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়েছে।
সোমবার বিকেল থেকে মধ্যরাতের পর্যন্ত দমকা হাওয়ার সঙ্গে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা-পাকা ধান মাটিতে শুয়ে গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আবদুল করিম জানান, চলতি রোপা আমন চাষ মৌসুমে জেলায় ৬৯ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। যাতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন চাল। ধানের ভারে শীষ গুলো যেন হেলে পড়ছে। টুকটাক কাটা মাড়াই শুরুও হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে। এরমধ্যে সাইক্লোন সিত্রাংয়ের প্রভাবে গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাত সঙ্গে দমকা হাওয়ার কারণে ২৩০ হেক্টর জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এতে ফলন কিছুটা কম হবে। তবে আকাশ পরিস্কার ও রোদ থাকায় হেলে পড়া ধান দু/এক দিনের মধ্যে আবার উঠে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করে কৃষি বিভাগ।
অসময়ে সাইক্লোন সিত্রাংয়ের প্রভাবে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা বাতাসের কারণে রোপা আমন ধানসহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন শীতকালীন আগাম সবজি চাষিরা। অধিকাংশ মাঠের আমন ধান মাটিতে শুয়ে গেছে। শুয়ে যাওয়া ধান নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষায় কৃষকেরা চেষ্টা করছেন।
কালাই উপজেলার রোয়াইর গ্রামের কৃষক আব্দুর রউফ বলেন, এবার ৭ বিঘা জমিতে কাটারীভোগ জাতের ধান রোপণ করেছি। ধানের ফলন এবার খুব ভালো হবে এমন আশা নিয়ে আগামী সপ্তাহে ধান কাটা শুরু করার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেও অসময়ে সাইক্লোন সিত্রাংয়ের প্রভাবে বৃষ্টি ও বাতাসে বেশির ভাগ ধান মাটিতে শুয়ে গেছে। এতে ধানের ফলন অনেক কমে যাবে বলে আশংকা করেন কৃষক আব্দুর রউফ।
একই উপজেলার ঝামুটপুর গ্রামের মোতালেব নামে এক কৃষক বলেন, অনেক কষ্ট করে ৫০শতক সুগন্ধি আতব ধান চাষ করেছি। হিসেব অনুযায়ী এ ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচসহ লাভ হবে এমন আশায় বুক বাঁধলেও সিত্রাংয়ের প্রভাবে ধানগাছ মাটিতে হেলে পড়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বলে জানান কৃষক মোতালেব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষন কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আবদুল করিম বলেন, চলতি রোপা আমন চাষ মৌসুমে জেলায় ৬৯ হাজার ৫৩৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। ধানের ভারে শীষ গুলো হেলে পড়েছে। ফলন ভালো হবে এমন আশার আনন্দে যেন বাতাসে ধানের শীষের সঙ্গে দোল খাচ্ছে কৃষকের মনও। টুকটাক কাটা মাড়াই শুরুও হয়েছে বিচ্ছিন্ন ভাবে। ইতোমধ্যে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা সম্পন্নও হয়েছে। এরমধ্যে সাইক্লোন সিত্রাংয়ের প্রভাবে গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাত সঙ্গে দমকা হাওয়ায় ২৩০ হেক্টর জমির ধান মাটিতে শুয়ে পড়েছে। এতে ফলন কিছুটা কম হওয়ার আশংকা করছে কৃষি বিভাগ।
সূত্র: বাসস











