spot_img
spot_img

ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ফিলিস্তিনিদের যেসব কারণে বন্দি রাখা হয়েছিল

টানা সাত সপ্তাহ ধরে যুদ্ধ চলার পর, ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস ও ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের মধ্যে ৪ দিনের যুদ্ধ বিরতি চুক্তি গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এ চুক্তির আওতায় শুক্রবার সকালেই ইসরাইলের কারাগারে বন্দি থাকা ৩৯ জন ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি দেয় তেল আবিব।

যে কারণে তাদের বন্দী করেছিল দখলদার বাহিনী:

গত জুলাই মাসে জাতিসংঘের জরুরি শিশু তহবিল ইউনিসেফের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, “সবচেয়ে বেশি যে অপরাধের জন্য কারাদণ্ড দেওয়া হয় তা হচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করা। যার ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।”

এছাড়াও যেসব তুচ্ছ কারণে গ্রেফতার করা হয়েছিল এসব বন্দীদের

১. ইসরাইলি নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
২. অনুমতি ছাড়া ইসরাইলে অনুপ্রবেশ করা।
৩. ইসরাইলি বাহিনীর দিকে পাথর নিক্ষেপ করা।
৪. কথিত সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন।
৫. অজ্ঞাত সংগঠনের সাথে জড়িত থাকা।

ইসরাইলের দৈনিক সংবাদপত্র হারেৎজ থেকে জানা যায়, যেসব ফিলিস্তিনিরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তাদের মুক্তি দেওয়া হবে না। তবে হত্যার চেষ্টায় দোষী সাব্যস্তদের মুক্তি দেওয়া যেতে পারে।

মুক্তির পর এসব বন্দীরা কোথায় গেছে:

শুক্রবার সকালে এসব বন্দিদের কারাগার থেকে মুক্ত করে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে জেরুসালেমের বাসিন্দারা সেখানেই ফিরে যায় এবং পশ্চিম তীরের বন্দীরা বেতুনীয়া মিউনিসিপাল কাউন্সিলে জড়ো হয়। যেখানে তাদের বন্দি পরিবার অপেক্ষা করছিল। তবে এসব বন্দিদের ঘিরে যে কোন উদযাপন নিষিদ্ধ করেছে দখলদার কর্তৃপক্ষ।

কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দির সংখ্যা ও নির্যাতন

আটককৃত ফিলিস্তিনিদের বন্দি রাখার জন্য মোট ২০ টি কারাগার রয়েছে। যার ১৯ টি ইসরাইলের অভ্যন্তরে ও ১টি পশ্চিম তীরে অবস্থিত।

গত ৭ অক্টোবরের পূর্বে এসব কারাগারে বন্দীদের সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ২০০ জন। তবে ৭ই অক্টোবরে হামাসের ইসরাইল অভিযানের পর থেকে মোট ৫০ দিনে আরো ৩ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে ৩৭ জন সাংবাদিক রয়েছেন যাদের প্রশাসনিক আটক দেখানো হয়েছে।

বেশ কিছু ফিলিস্তিনি ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাদেরকে অসলো চুক্তি স্বাক্ষরের আগে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

এছাড়াও প্রায় ৭০০ ফিলিস্তিনি শিশুকে গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের পর সামরিক আদালতে প্রেরণ করেছে দখলদার বাহিনী। আদালত প্রতিবছর এসব শিশুদের বিচার করছে।

সেভ দি চিলড্রেনের মতে, এসব শিশুরা প্রায়ই শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এছাড়াও খাবার, পানি এবং ঘুম থেকে বঞ্চিত করা হয় তাদের।

সূত্র: আল জাজিরা

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ