ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরের ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বিশেষ বৈঠকে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনোত্তর কার্যক্রম পর্যালোচনা, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামনে রেখে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এ বিশেষ শুরা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ২০২৫-২৬ সেশনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি রাজনৈতিক কৌশল ও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতানুগতিক কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। শরিয়াহ পূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি বলেন, শরিয়াহ ও ইসলামকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করি। এতে বাহ্যিক চড়াই-উতরাই থাকলেও আমরা তা মেনে নেই। সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। এ জন্য দলকে আরও সুসংহত করতে হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, জাতির প্রত্যাশা পূরণে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক ব্যর্থতা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে বৈঠক শুরু হয়। এতে বিগত সেশনের সামগ্রিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক। রাজনৈতিক প্রতিবেদন পেশ করেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।
প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর শুরা সদস্যদের পরামর্শে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, পীর সাহেব চরমোনাই।
নতুন কমিটিতে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক ও মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিনকে।
সহকারী মহাসচিব করা হয়েছে মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান ও হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফকে।
বিগত সেশনের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদকে দলের সর্বোচ্চ পরিষদ প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে। তিনি ২০০৮ সাল থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দলের প্রতি তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে শুরা অধিবেশনে তাকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
ঘোষিত কমিটির তালিকা
আমীর
মুফতি রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর)
নায়েবে আমীর
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম
মাওলানা আব্দুল আউয়াল
মাওলানা আব্দুল হক আজাদ
মহাসচিব
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান
যুগ্ম মহাসচিব
প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম
হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ
শাহ ইফতেখার তারিক
মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন
সহকারী মহাসচিব
মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের
মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম
কে এম আতিকুর রহমান
হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ
সদস্য
মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালী উল্লাহ (এমপি)
মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী
আলহাজ হারুন অর রশীদ
হাফেজ মাওলানা নুরুল করীম আকরাম
শেখ আবু তাহের
মুফতি কেফায়েতুল্লাহ কাশফী
অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার
মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন
আলহাজ আব্দুর রহমান
প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ
মুফতি হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী
প্রফেসর ড. বেলাল নূর আজীজি
মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আবুল কাশেম
মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন সাকী
শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী
হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান (এলএলবি)
মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম
উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম
কে এম শরীয়তুল্লাহ
অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ লতিফ
অধ্যাপক নাছির উদ্দিন খান
মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী
আলহাজ মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম
মুফতি রেজাউল করীম আববার
মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী
আলহাজ মুহাম্মদ আল ইকবাল
আলহাজ মুহাম্মদ সেলিম মাহমুদ
প্রভাষক মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার
কে এম বেলাল হোসাইন
মাওলানা শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম
মুহাম্মদ আব্দুজ জলিল
মুহাম্মদ আল-আমীন (ঠাকুরগাঁও)
ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফ
এম এম কামাল হোসাইন (ভোলা)











