spot_img
spot_img

ইসরাইলের নির্বাচনে গাজ্জার ‘রক্ত’কে ব্যবহার করা হবে: হামাস নেতা

দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনে গাজ্জার ‘রক্ত’ ও ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে নির্বাচনী প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের নেতা খলিল আল-হাইয়া।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল আল-আরাবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

খলিল আল-হাইয়া বলেন, এই ব্যক্তি বা ওই ব্যক্তি ক্ষমতায় আসুক, কিংবা এই দল বা অন্য কোনো দল, আমাদের জনগণ সব ইসরাইলি দলের হাতেই ভুগেছে।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের রক্ত, দুর্ভোগ ও অধিকারকে ইসরাইলের নির্বাচনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমাদের জনগণ তাদের লক্ষ্য, আকাঙ্ক্ষা ও বৈধ অধিকার অর্জন করুক।

আগামী ২৭ অক্টোবর দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জনমত জরিপে সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোটকে নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু গাজ্জা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার না করার অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন শান্তি উদ্যোগে দেওয়া প্রস্তাবও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে পরিচালিত তুফান আল-আকসা অভিযানের পর এটিই ইসরাইলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই অভিযানে হামাসের যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে প্রবেশ করে ১ হাজার ২২১ জনকে হত্যা এবং ২৫১ জনকে গাজ্জায় নিয়ে যায় বলে ইসরাইলি তথ্যের ভিত্তিতে করা এএফপির হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর জবাবে দখলদার ইসরাইল গাজ্জায় ব্যাপক হামলা ও আগ্রাসন চালিয়ে আসছে। এতে গাজ্জার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। গাজ্জার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরাইলি আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৯০০ ছাড়িয়েছে। মন্ত্রণালয়টি হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন হলেও জাতিসংঘের কাছে দেওয়া এর হতাহতের পরিসংখ্যান নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছেন সাবেক সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকোট। তিনি নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় ছিলেন। পরে কৌশলগত ব্যর্থতার জন্য তিনি নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন।

এদিকে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ আগামী ২৮ নভেম্বর আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারণ করেছে। ২০০৬ সালের পর এটিই হবে প্রথম ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচন। তবে নির্বাচনটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

২০০৬ সালের সর্বশেষ আইনসভা নির্বাচনে হামাস জয়ী হয়ে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহকে পরাজিত করে। এরপর গাজ্জার নিয়ন্ত্রণ নেয় হামাস। অন্যদিকে পশ্চিম তীরে আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সীমিত স্বায়ত্তশাসন রয়েছে।

হাইয়া বলেন, জাতীয় কর্মসূচির ভিত্তি তৈরি এবং প্রকৃত ঐক্য অর্জনের লক্ষ্যে আমরা প্রেসিডেন্ট আব্বাসের সঙ্গে বসতে প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি নির্বাচন স্থগিত করা হলে সেই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনিদের নিজেদের ঘর গুছিয়ে নেওয়ার পথ উন্মুক্ত করার উদ্যোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।

হামাস ফাতাহর সাবেক নেতা মোহাম্মদ দাহলানের সঙ্গে একটি জোট গঠনে কাজ করছে। গাজ্জায় জন্ম নেওয়া দাহলান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছেন।

হাইয়া বলেন, নির্বাচন স্থগিত হলে জোট অটুট থাকবে এবং সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এর লক্ষ্য হবে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় ফ্রন্ট গড়ে তোলা।

তবে হামাস আদৌ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। আব্বাস সব প্রার্থীকে ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থার (পিএলও) কর্মসূচি মেনে নেওয়ার শর্ত দিয়েছেন। ১৯৯৩ সালে অসলো শান্তি চুক্তির সূচনাকালে পিএলও ইসরাইলের অস্তিত্বের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়।

সূত্র : এএফপি, আল-আরাবি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ