spot_img
spot_img

গাজ্জায় ইসরাইলি বিমান হামলায় ফিলিস্তিনি নারী শহীদ, আহত অনেক

গাজ্জা শহরের পূর্বাঞ্চলে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি নারী শহীদ হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন-নাফাক সড়কের আল-মাশাহারা এলাকায় আল-মাশহরাওয়ি পরিবারের একটি বাড়ির ছাদে এ হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলার শিকার বাড়িটিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। হামলায় এক ফিলিস্তিনি নারী শহীদ হন এবং কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে আহতদের আল-মামাদানি হাসপাতাল ও আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

গাজ্জা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের বিষয়ে ফিলিস্তিনি সূত্রগুলোর অভিযোগের মধ্যেই এই হামলা চালানো হলো। রোববার সন্ধ্যা থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় দখলদার ইসরাইলি সামরিক যান চলাচল, গুলিবর্ষণ ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে গোয়েন্দা বিমান ও ড্রোনের ব্যাপক উড্ডয়নও দেখা যায়।

গাজ্জার উত্তরাঞ্চলে দখলদার ইসরাইলি সামরিক যান ও বুলডোজার বেইত লাহিয়ার পশ্চিমে আমেরিকান এলাকায় আল-মানামা স্কুলের দিকে অগ্রসর হয়। এরপর আল-আতাতরা স্টেডিয়ামের কাছে ট্যাংকের চলাচল দেখা যায়। এ সময় ব্যাপক ও অব্যাহত গুলিবর্ষণ করা হয়।

এ ছাড়া জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পূর্বদিকে দখলদার ইসরাইলি সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। মাঠপর্যায়ের সূত্র জানায়, উত্তর গাজ্জার আল-আতাতরা এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়ে আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সে পৌঁছেছেন।

গাজ্জা শহরের পূর্বাঞ্চলে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর আল-সানাফুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গোলাবর্ষণ করা হয়। একই সময়ে বেইত লাহিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল।

গাজ্জার মধ্যাঞ্চলে আল-মাগাজি ও আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বদিকে ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোন থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। একই সময়ে আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের উত্তরদিকে সামরিক যান থেকেও গুলিবর্ষণ করা হয়। এ ছাড়া ওয়াদি গাজ্জার দক্ষিণে কয়েকটি সামরিক যানের চলাচল দেখা যায় এবং সেখানেও গুলিবর্ষণ করা হয়।

গাজ্জার দক্ষিণাঞ্চলে মাওয়াসি খান ইউনিসের আকাশে গোয়েন্দা বিমানের ব্যাপক উড্ডয়ন দেখা যায়। একই সঙ্গে শহরের দক্ষিণদিকে সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। মাওয়াসি রাফাহ এলাকাতেও ইসরাইলি ট্যাংক থেকে ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়।

এ ছাড়া মিশরীয় শিবির থেকে সাফতাওয়ি গোলচত্বর পর্যন্ত বিস্তৃত আত-তাওয়াম এলাকায় ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোনগুলো নিচু দিয়ে উড়তে দেখা যায়। একই সময়ে খান ইউনিস ও গাজ্জা শহরের আকাশে গোয়েন্দা বিমানের ব্যাপক উড্ডয়ন অব্যাহত ছিল।

গাজ্জা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনো কার্যকর থাকা অবস্থায় এসব ঘটনা ঘটছে। ফিলিস্তিনি সূত্রগুলোর অভিযোগ, উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি সামরিক যান চলাচল, গুলিবর্ষণ ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র : ফিলিস্তিন অনলাইন

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ