ইমারাতে ইসলামীয়া আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের নতুন সরকারের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হবে বলে আশা করছেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমির খান মুত্তাকী।
আফগানিস্তানের বেসরকারি একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের সাথেই সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় আফগানিস্তান, বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে।
মাওলানা মুত্তাকি বলেন, “আমরা আশা করি পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনের সমাপ্তি ও নতুন একটি সরকার গঠিত হওয়ার পর চলমান পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, যেহেতু পাকিস্তানের বেশকিছু উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ সম্পর্কে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এই দুই দেশের মানুষ হতদরিদ্র, তাদের অর্থনৈতিক ভালো অবস্থা ও নিরাপত্তা প্রয়োজন। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাহায্য ও সহযোগিতা করেছি।”
সাক্ষাৎকারে, পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া আফগান শরণার্থীদের বিষয়টি তুলে ধরেন মাওলানা মুত্তাকি। মুত্তাকির মতে, এসব শরণার্থীদের পাকিস্তান থেকে বিতাড়িত করার পেছনে রাজনৈতিক চাপ ও কৌশল ছিল। এসব শরণার্থীরা পাকিস্তানের জন্য কোন ধরনের হুমকি নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, গত ৪০ বছর ধরে পাকিস্তানের বসবাস করছে এসব শরণার্থীরা। তারা যদি পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হত, তাহলে এই দীর্ঘ সময় ধরে কোন ধরনের হুমকি প্রদান করা হয়নি কেন.?
মাওলানা মুত্তাকির মতে, এই অঞ্চলে আফগানিস্তান আর কোন হুমকি নয় বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে আঞ্চলিক দেশগুলো।
তিনি বলেন, রাশিয়া, চীন ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সরকারি প্রতিনিধিরা আফগানিস্তান সফরে আসছে এবং বৈঠক করেছে। আর এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিশ্বে এই বার্তা পৌঁছায় যে, আফগানিস্তানে বর্তমানে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রয়েছে। এই অঞ্চল আফগানিস্তানের উপর সন্তুষ্ট।
উল্লেখ্য, আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যটি ঠিক এমন সময় এসেছে যখন, পাকিস্তান থেকে প্রায় পাঁচ লাখ আফগান শরণার্থীদের জোরপূর্বক দেশ ত্যাগের জন্য ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: তোলো নিউজ











