spot_img
spot_img

ভারতে এক আলেমের ১০ বছর কারাভোগ; আদালতে প্রমাণিত তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ নির্দোষ

ভারতে ‘উগ্রবাদী’ তকমা দিয়ে গ্রেফতারের পর ১০ বছরের বেশি সময় কারাগারে কাটানো ওড়িশার মুসলিম মাদরাসা শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত।

মঙ্গলবার (২৬ মে) কটকের দায়রা জজ মানস রঞ্জন বারিকের আদালত এ রায় দেন। আদালত বলেছেন, মাওলানা আব্দুর রহমান কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন কিংবা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমন কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেনি পুলিশ।

ওড়িশার কটক জেলার জগৎপুর থানার পশ্চিমকচ্ছা গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আব্দুর রহমান একটি মাদরাসা পরিচালনা করতেন। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি ও ওড়িশা পুলিশের যৌথ দল তাকে গ্রেফতার করে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তিনি যুবকদের ‘উগ্রবাদী’ কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে প্ররোচিত করছিলেন এবং বিভিন্ন সংগঠনের জন্য লোক নিয়োগ করছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় পুলিশের আনা অভিযোগগুলো আদালতে টেকেনি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজেই আদালতে স্বীকার করেন, মাওলানা আব্দুর রহমানের পরিচালিত মাদরাসার কোনো ছাত্র কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনে যোগ দিয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। তিনি আরও স্বীকার করেন, আব্দুর রহমান নিজে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, এমন কোনো নথিও উদ্ধার করা যায়নি।

তার কাছ থেকে কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক বা এ ধরনের কোনো উপকরণও জব্দ করা হয়নি। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, তিনি শিক্ষার্থী বা স্থানীয় কাউকে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছেন, তদন্তে এমন কোনো ঘটনাও উঠে আসেনি।

হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, আদালত পুলিশের বক্তব্যকে অসার বলে মন্তব্য করেছে। মাওলানা আব্দুর রহমানের ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়েদার সদস্যপদ, লস্কর কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পাকিস্তান সফরের অভিযোগের পক্ষে পুলিশ একটি নথিও হাজির করতে পারেনি। তার পাসপোর্টেও পাকিস্তান সফরের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, তার একটি বক্তব্যের অডিও সিডি পরীক্ষা করেও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পাওয়া যায়নি। ওই বক্তব্যে মুসলমানদের নিজেদের ধর্ম মেনে চলা এবং বিরোধিতাকে ভয় না করার আহ্বান ছিল। মামলার ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জন বৈরী সাক্ষী হন। অনেকেই বলেন, তিনি শুধু ইসলামী শিক্ষা দিতেন এবং তারা তাকে কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনেননি।

এরপর ইউএপিএ আইনের ১৬, ১৭, ১৮, ১৮-বি, ২০, ২১, ৩৮ ও ৪০ ধারায় আনা অভিযোগগুলো খারিজ করে দেন বিচারক। একই সঙ্গে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২৪-এ ধারায় আনা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগও খারিজ করেছেন আদালত।

আদালতের মতে, বক্তব্য, লেখা, চিহ্ন বা অন্য কোনো উপস্থাপনার মাধ্যমে মাওলানা আব্দুর রহমান ভারত সরকার বা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা, অবমাননা বা অসন্তোষ উসকে দিয়েছেন, এমন অভিযোগও প্রমাণ করতে পারেনি প্রসিকিউশন।

আদালত তাকে অবিলম্বে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন, যদি অন্য কোনো মামলায় তার প্রয়োজন না থাকে। মাকতুব মিডিয়া জানিয়েছে, দিল্লির আরেক মামলায় সাজা শেষ করার পরও ওড়িশার এই মামলার কারণে তিনি কারাগারে ছিলেন।

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় কারাভোগের পর আদালতের রায়ে মাওলানা আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে আনা ‘উগ্রবাদী’ অভিযোগগুলো ভেঙে পড়ল। কিন্তু বেকসুর খালাস পেলেও জীবনের মূল্যবান ১০ বছরের বেশি সময় তাকে কারাগারেই কাটাতে হয়েছে।

সূত্র : দ্য প্রিন্ট, মাকতুব মিডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ