spot_img

সংসদ অধিবেশনে ইজরাইলের বর্বরতার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে : চরমোনাই পীর

আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইজরাইলের সাম্প্রতিক বর্বরতার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন ইসলামী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি রেজাউল করীম।

আজ (৩০ মে) বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে “একসেপ্ট ইসরাইল” শব্দ বাদ, আসন্ন জাতীয় বাজেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াসহ দেশব্যাপী চলমান জেল-জুলুম ও মামলা প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে চরমোনাই পীর বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা ও অবৈধ ইজরাইলের বর্বরতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। ইতিহাস ও ঘটনার ধারাক্রম সবারই জানা। ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অবস্থান সাধুবাদ যোগ্য। আমরা বাংলাদেশের অতীত অবস্থানকে ধন্যবাদ জানিয়েছি। বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের জন মানুষের আবেগ অনুভূতিকে আমলে নিয়ে জনতার পক্ষ থেকে আমরা প্রস্তাব করছি যে,

-আসন্ন জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ইজরাইলের সাম্প্রতিক বর্বরতার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাশ করতে হবে।

-আসন্ন জাতিসংঘ অধিবেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন পুন:ব্যক্ত করে ইজরাইলের নিন্দা করতে হবে।

-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সরব ভূমিকা পালন করেন। আমরা আশা করবো, আসন্ন জাতিসংঘ অধিবেশন চলাকালে স্বাধীন সার্বভৌম একক ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্যও তিনি সরব ভূমিকা পালন করবেন।

-মুসলমানদের প্রথম কেবলা বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্তকরণ কল্পে বহুজাতিক মুসলিম সেনাবাহিনী গঠনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

মুফতি রেজাউল করীম বলেন, ফিলিস্তিনে ইজরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে যখন গোটা বিশ্বের মানুষ সোচ্চার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও যখন প্রথাগত ইজরাইলি পক্ষপাতের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্ব জোড়ালো প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে, তখন বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করলাম, বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ৫০ বছরের ঐতিহ্য ছুড়ে ফেলে “একসেপ্ট ইজরাইল” শব্দদ্বয় বাদ দেয়া হয়েছে।

এই সংবাদে আমরা বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ। আমরা আরো হতাশ হয়েছি এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়হীনতা দেখে। স্বাধীনতার শুরু থেকে ৫০টি বছর ধরে অনুসৃত একটি রীতি, যে রীতির সাথে আমাদের মৌলিক চেতনা সম্পৃক্ত; এমন একটা সিদ্ধান্ত গ্রহণে জন পরিসরে ও সংসদে আলোচনা হয় নাই; এমনকি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পর্যন্ত এ বিষয়ে সঠিক তথ্য নেই। কি ভয়ংকর সমন্বয়হীনতা। নাকি এটা ষড়যন্ত্রমূলক রাখঢাক?

তিনি বলেন, বিষয়টি আলোচনায় আসার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য আমাদেরকে হতবাক করেছে। কারণ, তিনি আন্তর্জাতিক মান রক্ষার যে যুক্তি দিয়েছেন, তা কেবল অ-যুক্তিই নয় বরং একই সাথে অসত্য যুক্তি। পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মান রক্ষায় “একসেপ্ট ইজরাইল” শব্দদ্বয় কোন বাধা নয়। এর পক্ষে অনেক যুক্তি থাকলেও সহজ অর্থে কেবল এতটুকু উল্লেখই যথেষ্ট হবে যে, এই শব্দদ্বয় সহই মালয়েশিয়ার পাসপোর্ট বিশ্বের ১৯তম শক্তিশালী পাসপোর্ট।

চরমোনাই পীর বলেন, পাসপোর্ট থেকে এই শব্দ দুটি বাদ দেওয়া কার্যত ইজরাইলকে স্বীকৃতি দেয়া। আমরা বাস্তবতা থেকে জানি যে, তাইওয়ানকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেয়া সত্ত্বেও “একসেপ্ট তাইওয়ান” শব্দ পাসপোর্টে উল্লেখ না থাকার কারণে ৩য় কোন দেশ থেকে তাইওয়ানের ভিসা নেয়া যায় এবং তাইওয়ানের সাথে লেনদেন করা যায়।

একইভাবে ইজরাইলের ক্ষেত্রেও এই শব্দদ্বয় তুলে দিয়ে কার্যত ইজরাইলের সাথে সংযোগ স্থাপন করার ব্যবস্থা খোলা হচ্ছে। অশুভ জায়নবাদের কাজের ধারা মাথায় রাখলে এই সত্য বুঝতে কষ্ট হওয়ার কথা নয়। একই সাথে এই ইস্যুতে ইজরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভেরিফাইড পেজ থেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ ও অধিকাংশ আন্তর্জাতিক মিডিয়া এটাকে বাংলাদেশ কর্তৃক ইসরাইলে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হিসেবে সংবাদ পরিবেশন আমাদের আশংকাকেই সত্যায়ন করে।

চরমোনাই পীর আরো বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই গোপন একক সিদ্ধান্ত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অযৌক্তিক উপস্থাপনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমরা বিশ^াস করতে চাই যে, বাংলাদেশ সরকার ইজরাইলের সাথে কোন ধরনের গোপন সম্পর্ক রাখে না, রাখার চেষ্টাও করে না এবং জায়নবাদের কোন চক্রান্তেও বাংলাদেশ ফেঁসে যায়নি।

এই বিশ্বাস থেকে আমরা বলিষ্ঠভাবে দাবী জানাচ্ছি যে, অবিলম্বে পাসপোর্টে “একসেপ্ট ইজরাইল” শব্দদ্বয় যোগ করতে হবে। যে পাসপোর্টগুলো এই শব্দ ছাড়া ইস্যু করা হয়েছে, সেগুলো প্রত্যাহার করে নিতে হবে। একই সাথে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করে কারা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তা বের করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

 

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ