ইসলামী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি রেজাউল করীম বলেছেন, আমাদের সংবিধান ও সরকারের দাবী মতে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। গণতান্ত্রিক দেশে সরকারের সমালোচনা, আন্দোলন, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, উত্তপ্ত বক্তব্য অতি স্বাভাবিক ব্যাপার। বরং এমনটাই গণতন্ত্রের নিয়ম। গণতন্ত্রের এই চিরাচরিত নিয়ম সহিংসতায় রূপ নেয় কেবল মাত্র সরকারের আচরণের ভিত্তিতে। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে সরকার পক্ষ সবসময়ই নিয়মতান্ত্রিক বাদ-প্রতিবাদকে দমন-পীড়ন করে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়। আর তার জের ধরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হামলা মামলা দিয়ে নির্যাতন ও হয়রানি করে। সরকারের ফ্যাসিবাদী এই চরিত্রের সর্বশেষ শিকার ওলামায়ে কেরাম। নরেন্দ্র মোদীর আগমনের প্রেক্ষিতে জনমনের ক্ষোভ প্রকাশ ও তাতে সরকারের দমন-পীড়নমূলক আচরণের প্রেক্ষিতে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে কেন্দ্র করে পবিত্র রমজানে যেভাবে ওলামায়ে কেরামকে আটক করে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে, তাতে এ দেশের মুসলমানদেরকে ১৮৫৭ এর সিপাহী বিপ্লবোত্তর ওলামাদের সাথে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজদের আচরণের কথাকে মনে করিয়ে দেয়।
আজ (৩০ মে) বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে “একসেপ্ট ইসরাইল” শব্দ বাদ, আসন্ন জাতীয় বাজেট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়াসহ দেশব্যাপী চলমান জেল-জুলুম ও মামলা প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, সবাইকে মনে রাখা উচিত, ইতিহাসও সাক্ষী যে, উলামায়ে কেরাম সবচেয়ে শান্ত ও নির্ঝঞ্জাট জীবন যাপন করেন। সেই ওলামায়ে কেরামকে ঠুনকো অযুহাতের ভিত্তিতে মামলা দিয়ে জর্জরিত করা এবং গ্রেফতার করে দিনের পর দিন রিমান্ডে নেয়ার ফলে জনমনে এই সরকার ইসলাম বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে।
চরমোনাই পীর আরো বলেন, আমরা বিনয়ের সাথে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, বাংলার জনগণ কাউকে ইসলামের বিরুদ্ধ শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করলে, বাংলার রাজনীতি ও সমাজে তার ভবিষ্যৎ সংকীর্ণ হয়ে যায়। এটা ইতিহাসের শিক্ষা।আজকের এই সংবাদ সম্মেলন থেকে আমরা আটককৃত নিরপরাধ সকল ওলামায়ে কেরাম এবং তুচ্ছ কারণে বা হয়রানীমূলক মামলায় আটককৃত অন্যান্য সকল রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির আহ্বান করছি। অন্যথায় এই সরকার ওলামা নিপীড়ক শক্তি হিসেবে ইতিহাসে কলঙ্কিত হবে।











