বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে অনুষ্ঠিত যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের শান্তি সমাবেশে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় হাফেজ রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কঠোর শাস্তি ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
আজ সোমবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিবুর রহমান ও সেক্রেটারি জেনারেল মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আবারো আওয়ামী সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দেখল দেশবাসী। গত শুক্রবার বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে আওয়ামীলীগের তিন সংগঠনের কথিত শান্তি সমাবেশে কেরানীগঞ্জের বর্তমান এমপি কামরুল ইসলাম ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ গ্রুপের মধ্যে মারামারির সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় নিরীহ পথচারি হাফেজ রেজাউল করিমকে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, নিহত হাফেজ রেজাউল করিম যাত্রাবাড়ী জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদানিয়া মাদরাসার জালালাইন জামাতের ছাত্র ছিলেন। তিনি হত্যাকাণ্ডের সময় অসুস্থ ছিলেন এবং বোনের বাড়িতে চিকিৎসার জন্য যাচ্ছিলেন। হাফেজ রেজাউল করিম শেরপুরের নকলা উপজেলার নারায়ণখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের বড় ছেলে।আওয়ামী সন্ত্রাসীরা শুধু একজন নিরীহ হাফেজকে হত্যাই করেনি; একইসাথে একটি পরিবারের হাল ধরার একমাত্র অবলম্বনকে শেষ করে দিয়েছে!
নেতৃদ্বয় বলেন, একজন কুরআনে হাফেজ ও মেধাবী ছাত্রকে নির্মমভাবে হত্যায় গোটা জাতি স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ। জাতি জানতে চায়, কোন অপরাধে একজন হাফেজকে এমন নৃশংসভাবে হত্যা করা হলো? এভাবে একের পর এক ছাত্র হত্যার লাইসেন্স আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কে দিয়েছে?
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এমন বর্বরতা নতুন নয়। এর আগেও বুয়েটে আবরার ফাহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু বকরসহ অসংখ্য নিরীহ মেধাবী ছাত্রকে খুন করেছে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এমনকি মায়ের পেটে থাকা শিশুকেও এই আওয়ামী হায়েনারা গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিয়েছে।
হাফেজ রেজাউল করিমের হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে পুলিশ ও প্রশাসনের সামনে বলে মন্তব্য করে নেতৃদ্বয় বলেন, আওয়ামী হত্যাযজ্ঞ লোকচক্ষুর আড়ালে হচ্ছে না। সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষই চিহ্নিত। বিভিন্ন গণমাধ্যমে ঘটনাস্থলের অসংখ্য ভিডিও ফুটেজ ও ছবি রয়েছে। চারপাশে সিসি টিভি ক্যামেরাও ছিল। সুতরাং খুনিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা একদমই সহজ ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত খুনিদের গ্রেপ্তার দূরে থাক, পুলিশের সামান্য তৎপরতা দেখেনি দেশবাসী। একই সাথে আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারাও নীরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি জাতীয় গণমাধ্যমগুলোও সুকৌশলে এ বর্বর হত্যাযজ্ঞের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে।
জাতি জানতে চায়, নিরীহ মাদরাসা ছাত্র বলেই কি তাদের এ দায়িত্বহীন আচরণ? এ দায়িত্বহীনতা শুধু অমানবিকই নয়; বরং আরো নারকীয়তা ও অন্য কোনো মায়ের বুক খালি করতে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের উৎসাহ জোগাচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অবৈধ সরকারের মদদে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা একের পর এক নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর রাজনৈতিক বিবেচনায় খুনিরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। সরকারের এই দায়িত্বহীন, লজ্জাজনক ভূমিকা দলীয় সন্ত্রাসীদের দিনদিন আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। এমন হত্যাযজ্ঞ ও নির্মমতা জাতি মেনে নেবে না। জনগণ তাদের জান-মাল আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কাছে লিজ দেয়নি।
নিহত রেজাউল করিমের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়ে নেতৃদ্বয় বলেন, অবিলম্বে হাফেজ রেজাউল করিম হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তার পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আগামীতে এমন বর্বরতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় হাফেজ রেজাউল করিমের জীবন সস্তা নয়। প্রয়োজনে এ হত্যাকাণ্ডের উপযুক্ত জবাব দিতে ছাত্রসমাজ রাজপথে নামবে। আর তখন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায়ভার দায়িত্বহীন সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে।










