spot_img

সৌদি আরবে সিআইএর স্টেশনে ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে গত সোমবার একটি ড্রোন হামলা সংঘটিত হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-র একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন অবস্থিত।

বুধবার (৪ মার্চ) বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি বিশেষ সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

রয়টার্স জানায়, এই ড্রোনটি সম্ভবত ইরান থেকে ছোড়া হয়েছিল। যদিও এখন পর্যন্ত এটি নিশ্চিত নয় যে সিআইএ স্টেশনটিই এই হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ছিল কি না। এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সিআইএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

গত শনিবার থেকে ইরান এবং আমেরিকা ও ইসরাইল জোটের মধ্যে শুরু হওয়া সরাসরি সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই হামলাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে অভিযান শুরুর পর থেকেই তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ও ইসরাইলি স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।

রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় ড্রোন আঘাত হানার এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, এই অঞ্চলের উচ্চ সুরক্ষিত এলাকাগুলোও এখন আর হামলার বাইরে নয়। এই হামলার পর সৌদিতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ড্রোন হামলার ফলে দূতাবাসের ছাদের একাংশ ধসে পড়েছে এবং ভেতরে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

সিআইএ-র স্টেশনটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তু না হলেও দূতাবাসের ভেতরে এর অবস্থান হওয়ায় গোয়েন্দা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে হামলার সময় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যে তাদের কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে এবং এই হামলার উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাবে পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরান সরাসরি ঘোষণা দিয়েছে যে তারা মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সব জায়গাতেই আঘাত হানবে। অন্যদিকে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমায় যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকানোর জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সৌদি আরবের মাটিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়ের কাছাকাছি এমন হামলা চলমান সংঘাতকে আরও দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ