নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে আমেরিকার সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তিকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থের জন্য অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৫ মে) এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে আমেরিকার সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই এর যথার্থতা ও সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এই চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা হবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, আমাদের উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আশঙ্কা বাস্তবে পরিণত হয়েছে।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, চুক্তিতে একতরফাভাবে বাংলাদেশের ওপর ১৩১টি বিষয়ে বাধ্যবাধকতা চাপানো হয়েছে। বিপরীতে আমেরিকার ক্ষেত্রে মাত্র ৬টি বিষয়ে আবশ্যকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, চুক্তির সবচেয়ে সমস্যাজনক বিষয় হলো, একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে দেশের জনগণের স্বার্থে ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। চুক্তিতে বাণিজ্যিক বিবেচনা ও সুযোগ ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থে দেশীয় উৎপাদকদের ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং পণ্য উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। আমেরিকা লিখিতভাবে চাইলে বাংলাদেশ ভর্তুকির তথ্য দেবে। কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কী বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, তাও জানাতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, চুক্তিতে একগাদা আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেওয়া ও বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক চুক্তির অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শক্তিশালী রাষ্ট্রের স্বার্থের অনুকূলে শর্ত রাখা হয়। দেশীয় বাস্তবতায় কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেওয়া না দেওয়ার বিষয়টি একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। অন্য কোনো রাষ্ট্র সেই সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু এই চুক্তিতে সেই বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে এই চুক্তির বহু বিষয় রয়েছে, যা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। সেই চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকার স্বাক্ষর করেছে। আর তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই চুক্তি করার সময় বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এটাই সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়। দেশের স্বার্থ বিসর্জনে সরকার ও বিরোধী দল একমত হলে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, আমরা মনে করি, এই চুক্তি নিয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে সর্বদলীয় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাশাপাশি সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। কারণ, আমরা কোনো পরাশক্তির আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারি না। একাত্তর ও জুলাই আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়।











