জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আয়োজিত এক সভায় বক্তারা বলেছেন, চীনা ও ভারতীয় সভ্যতার পাশে টিকে থাকতে বাংলাদেশকে সভ্যতাগত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য মুসলিম আত্মপরিচয় ধারণ করে কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক নতুন সংবিধান গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলা বিজয়ের ৮২১তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, বাংলা সভ্যতার বয়স অন্তত পাঁচ হাজার বছর। তবে প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা বিভিন্ন বিদেশি আগ্রাসনের শিকার হয়েছে। এসব আগ্রাসী শক্তি এখানকার জাতিগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়, ভাষা ও সংস্কৃতি মুছে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে তারা দাবি করেন।
তারা বলেন, ১২০৫ সালের ১২ মে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খিলজীর নেতৃত্বে লক্ষ্মণ সেনের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলার ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। এরপর মুসলমানরা স্থানীয় জনগণকে ভাই হিসেবে গ্রহণ করে সামাজিক ঐক্য গড়ে তোলে। তাদের ভাষ্যমতে, এই সময় বর্ণবৈষম্য ও নিপীড়ন থেকে জনগণ মুক্তি পায় এবং একটি নতুন সামাজিক জাগরণ সৃষ্টি হয়।
বক্তারা দাবি করেন, ইসলামী শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে অতীতে যেমন বাংলায় সালতানাত প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তেমনি ভবিষ্যতে মুসলিম পরিচয় ভিত্তিক রাষ্ট্র কাঠামো গড়ে উঠলে বাংলাদেশ চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতির পাশে একটি স্বতন্ত্র সভ্যতা হিসেবে অবস্থান করতে পারবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান। প্রধান অতিথি ছিলেন নবাব সলিমুল্লাহ অ্যাকাডেমির চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দি মেইন রোডার্সের মহাসচিব মোস্তফা আনোয়ার খান এবং উর্দুভাষী সংখ্যালঘু কাউন্সিল বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আফজাল ওয়ার্সি।
এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার এ.এস.এম. মিজানুর রহমান মৃধা, ব্যবসায়ী গোলাম রাব্বানী, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব গালীব ইহসান, সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ এবং বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।











