ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, আমেরিকা ইরানে বিভাজন ও সামাজিক ভাঙন সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, আমেরিকার দাদাগিরির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি অপরিহার্য।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) একদল অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় পেজেশকিয়ান ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইহুদিবাদী সরকারের সংঘটিত অপরাধের নিন্দা করেন।
তিনি বলেন, যারা মানবাধিকার ও মানবতার পক্ষে থাকার দাবি করে, তারাই নিজেদের হাতে থাকা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরপরাধ শিশু, বেসামরিক মানুষ এবং বিশেষ করে ইসলামী বিপ্লবের তৎকালীন নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে হত্যা করছে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ঐক্য ও সংহতিকে আমেরিকার দাদাগিরির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান ঐক্য ও সহযোগিতা বজায় রাখতে পারলে কখনোই ওয়াশিংটনের কাছে মাথা নত করবে না।
পেজেশকিয়ান বলেন, “দেশের মধ্যে যদি আমাদের পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সমন্বয় থাকে এবং আমরা ঐক্য ও সংহতি ধরে রাখতে পারি, তাহলে আমরা কখনোই আমেরিকার কাছে মাথা নত করব না।”
তিনি আরও বলেন, আমেরিকা দাদাগিরির আশ্রয় নিচ্ছে এবং তারা যে সমস্যা ও বিধিনিষেধ তৈরি করেছে, সেগুলোর মাধ্যমে সামাজিক ভাঙন সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “আমেরিকা পথগুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং দেশে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে।”
পেজেশকিয়ান বলেন, আমেরিকা ও ইসরাইলি সরকার তাদের সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, তারা একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র তৈরি করেছে এবং যাকে ইচ্ছা তাকে হত্যা করেছে।
তিনি গাজ্জার নিরপরাধ মানুষকে সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করারও সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেখানে মানুষের পান করার মতো পানি ও খাওয়ার মতো খাবারও ছিল না।
প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরান বর্তমানে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য কাজ করছে। তিনি বলেন, দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা তাদের সমস্যা ও উদ্বেগ মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।
তিনি বলেন, “আমরা যদি একসঙ্গে হাত মেলাই, তাহলে আমরা সমস্যা ও উদ্বেগগুলো মোকাবিলা করতে পারব।”
পেজেশকিয়ান উল্লেখ করেন, আমেরিকা সমুদ্রপথগুলো বন্ধ করে দিলেও স্থলপথের মাধ্যমে অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ইরানের যোগাযোগের মাত্রা বেড়েছে।
সূত্র : তাসনিম নিউজ এজেন্সি











