আফগানিস্তানের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় আধুনিক অস্ত্রসজ্জিত, প্রশিক্ষিত ও স্বনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ কারি মুহাম্মদ ফসিহউদ্দিন ফিতরাত। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় আফগান সশস্ত্র বাহিনী অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানী কাবুলের আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে নতুন সেনাসদস্যদের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন চার মাসের সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ১ হাজার ১০০ জন নতুন সেনাসদস্যের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়।
ফসিহউদ্দিন ফিতরাত বলেন, মুজাহিদীনদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আফগানিস্তানের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। এই স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে আধুনিক অস্ত্র, উন্নত প্রশিক্ষণ ও দক্ষ জনবলসমৃদ্ধ একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী অপরিহার্য।
তিনি বলেন, সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য প্রতিবেশী কোনো দেশকে হুমকি দেওয়া কিংবা অন্যের ভূখণ্ড দখল করা নয়। বরং বিদেশি আগ্রাসন, চাপ ও হস্তক্ষেপ থেকে আফগানিস্তানকে সুরক্ষিত রাখাই এর মূল লক্ষ্য।
সাবেক আফগান সরকারের সেনাবাহিনীর বিদেশিনির্ভরতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই বাহিনী স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বাহিনী প্রত্যাহারের পর তাদের পতনের জন্য সাবেক সরকারের দায়িত্বশীলদের দায়ী করেন তিনি।
আফগান সেনাপ্রধান জানান, ইমারাতে ইসলামিয়া একটি স্বাধীন ও পেশাদার সেনাবাহিনী গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতাও সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, আফগানিস্তান অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে দেশের অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর কোনো বিদেশি শক্তির নিয়ন্ত্রণ মেনে নেওয়া হবে না।
এদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত ও বাণিজ্যসংক্রান্ত উত্তেজনা নিয়েও কথা বলেন ফিতরাত। তিনি অভিযোগ করেন, আফগানিস্তানের পণ্য রপ্তানির মৌসুমে পাকিস্তান সীমান্তপথ বন্ধ করে দেয়। অথচ আমদানির প্রয়োজন হলে সেসব পথ আবার খুলে দেওয়া হয়।
এসব বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ইমারাতে ইসলামিয়া প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্যও আফগানিস্তান অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না।
বিদেশি সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আফগান সেনাপ্রধান বলেন, কিছু ব্যক্তি বিদেশি শক্তির সহযোগিতায় প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার নামে সংগঠন গড়ে তুলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব গোষ্ঠী পাকিস্তানের সমর্থন পাচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
বিদেশে অবস্থানরত সশস্ত্র বিরোধীদের দেশে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশে ফিরে বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করবে, তারা সম্মানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবে। তবে যারা সশস্ত্র তৎপরতা অব্যাহত রাখবে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনীর মোকাবিলা করতে হবে।
বাদাখশান প্রদেশে সশস্ত্র বিরোধীদের উপস্থিতির খবরও প্রত্যাখ্যান করেন ফিতরাত। তিনি দাবি করেন, বাদাখশানের পাহাড়ি এলাকায় বিরোধী যোদ্ধাদের অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে প্রচারিত কিছু ভিডিও প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তানের চিত্রাল অঞ্চলে ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাদাখশানের পাহাড়ে কোনো বিরোধী যোদ্ধা নেই। দেশের সর্বত্র নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার কোনো তৎপরতা বরদাশত করা হবে না।
আফগান সেনাপ্রধান আরও দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তানে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে কিছু দেশ এই অগ্রগতি মেনে নিতে পারছে না।
দেশের স্বাধীনতা, সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনগণের শান্তিপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে আফগান সশস্ত্র বাহিনী দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: আরিয়ানা নিউজ ও পাজওয়াক আফগান নিউজ











