ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি কারাগার থেকে ছয় ফিলিস্তিনি বন্দীর পালিয়ে ঘটনাকে অনেক বড় ব্যাপার বলে মন্তব্য করেছেন ইহুদিবাদী দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ওমের বারলেভ।
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি বন্দীরা অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে কারাগার থেকে পালিয়েছে। এটা অনেক বড় ব্যাপার।
ইসরাইলের পুলিশের কর্মকর্তা এভি বিতুন বলেন, বন্দী পলায়নের পর গোটা ফিলিস্তিনের ‘নিরাপত্তা’ জোরদার করা হয়েছে। কারণ এ ধরণের আরও ঘটনা ঘটতে পারে। ফিলিস্তিনি বন্দীরা আক্রমণাত্বক হয়ে উঠতে পারে।
হিব্রু ভাষার ওয়েব সাইট ওয়ালা নিউজ জানায়, ইসরাইলি কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ব্যাপক ফাঁক-ফোকড় রয়েছে। ছয় বন্দী অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। তারা পরিকল্পনা করে সফল হয়েছে। কিন্তু পালানোর কয়েক ঘণ্টা পরও ইসরাইলি কারাগারের কর্মকর্তারা বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে!
এর আগে মুক্ত জীবনের সন্ধানে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ইসরাইলের একটি কারাগার থেকে ছয় ফিলিস্তিনী বন্দী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। তাদের পাঁচজন ফিলিস্তিনের ইসলামী জিহাদ আন্দোলনের সদস্য। তাদের নাম মুন্দাল আইনফাত, মাহমুদ আরদিয়া, মুহাম্মাদ আরদিয়া, ইয়াকুব কাদারী ও ইহাম কামাগি। অপর একজন ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দল ফাতাহের সামরিক কমান্ডার জাকারিয়া জুবেইদি।
ফিলিস্তিনের এই প্রতিরোধ আন্দোলনের সদস্যরা ইসরাইলের জেলের ভেতরে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। পলাতক ছয় ফিলিস্তিনী একই হাজত কক্ষে থাকতেন। তারা একটি পোস্টারের পেছনে লুকিয়ে রাখা জং ধরা চামচ দিয়ে সুড়ঙ্গটি খুঁড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্তত দুই মাস ধরে তারা খননের কাজ করে। কারাগার থেকে পালানোর পর তারা অপেক্ষমান একটি গাড়িতে করে চলে যায়। রাত একটার সময় ফিলিস্তিনী বন্দিরা কারাগার থেকে বেরিয়ে যায়।
ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এ ঘটনাকে বীরত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে। হামাসের অন্যতম মুখপাত্র ফাউজি বারহুম এক বিবৃতিতে বলেন, কারাগার থেকে এসব বন্দির পলায়ন এর মধ্যদিয়ে তাদের সাহসিকতার পরিচয় বেরিয়ে এসেছে, এটি একটি বীরত্বপূর্ণ ঘটনা। ইসরাইলের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেও তারা মুক্তি অর্জন করেছে।
সূত্র : পার্সটুডে












