জরুরি সাইবার নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট। পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য সাইবার হামলা ঠেকাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওয়েবসাইটটি বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে কোনো সাইবার হামলা হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করা যাচ্ছিল না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, জরুরি নিরাপত্তা সমস্যার কারণে ওয়েবসাইট বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকি এড়াতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। ঝুঁকি বিশ্লেষণ শেষে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালু করা হবে।
সম্প্রতি পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষায় দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হয়েছে। ত্রুটিগুলো CVE-2026-109618 ও CVE-2026-109619 নামে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো কাজে লাগিয়ে কোনো ধরনের পূর্বানুমতি ছাড়াই দূর থেকে আক্রান্ত সার্ভারে কোড চালানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
পিএইচপি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ত্রুটি দুটির সমাধানে নতুন সংস্করণ প্রকাশ করেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোও পিএইচপিনির্ভর ওয়েবসাইট ও অনলাইন সেবা দ্রুত হালনাগাদ করার পরামর্শ দিয়েছে। প্রয়োজনীয় হালনাগাদ তাৎক্ষণিকভাবে করা সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ কয়েকটি সংস্থা নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনার জন্য তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে অফলাইনে রেখেছে।
পিএইচপি বহুল ব্যবহৃত একটি সার্ভারভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা। বিভিন্ন ওয়েবসাইট, অনলাইন সেবা ও কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থায় এটি ব্যবহার করা হয়। ফলে পিএইচপিতে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।
তবে কোনো ওয়েবসাইটে পিএইচপি ব্যবহার করা হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে না। ব্যবহৃত পিএইচপির সংস্করণ, নিরাপত্তা হালনাগাদ, সার্ভারের কনফিগারেশন এবং অন্যান্য সুরক্ষাব্যবস্থার ওপর ঝুঁকির মাত্রা নির্ভর করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট বন্ধ থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন তথ্য ও অনলাইন সেবা ব্যবহারে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে। তবে ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময় জানানো হয়নি।
নিরাপত্তাঝুঁকি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পরই ওয়েবসাইটটি পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।











