সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শার’আ আল জুলানী বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ থেকে তার দেশ দূরে থাকবে। কিন্তু যদি আমাদের ওপর আক্রমণ হয় এবং কথা বলে সমাধানের কোনো পথ না থাকে, তখন আমরা বাধ্য হয়ে যুদ্ধে নামতে পারি।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) লন্ডনে থিংক ট্যাঙ্ক চ্যাথাম হাউস আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, “যদি কোনো পক্ষ সিরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু না বানায়, তাহলে সিরিয়া যেকোনো সংঘাতের বাইরে থাকবে।”
তিনি বলেন, “আমরা চাই না সিরিয়া যুদ্ধের ময়দানে পরিণত হোক। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি প্রজ্ঞাবান মানুষের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে না। পরিস্থিতি অস্থির এবং এলোমেলো।”
সংঘাত চলাকালে সিরিয়া নিরপেক্ষ থাকবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা চাই সিরিয়ার সঙ্গে পুরো অঞ্চলের অর্থাৎ লেবানন, ইরাক, তুরস্ক ও সৌদি আরব এবং ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও আমেরিকার মতো বিশ্বশক্তির সঙ্গে আদর্শ সম্পর্ক গড়ে উঠুক। আমার বিশ্বাস, কৌশলগত সম্পর্কের একটি নেটওয়ার্ক শুরু করার যোগ্যতা সিরিয়ার রয়েছে।”
প্রতিবেশী দেশগুলোকে জড়িয়ে ফেলা এই আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে থাকতে সিরিয়া বরাবরই আগ্রহী। বিশেষ করে লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি স্থলবাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে। একইভাবে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে।
এরই মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে সিরিয়া লেবাননের সঙ্গে পশ্চিম সীমান্ত এবং ইরাকের সঙ্গে পূর্ব সীমান্তে হাজার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সীমান্ত সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শার’আ বলেন, “আমরা যথেষ্ট যুদ্ধ দেখেছি। এর জন্য বড় মূল্য দিতে হয়েছে। আমরা আরেকটি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নই।”
সূত্র: আরিয়ানা নিউজ










