পাঞ্জাব, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া ভাগ করে নতুন প্রদেশ ও প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের কথা ভাবছে পাকিস্তান সরকার।
শনিবার (১৫ আগস্ট) পাকিস্তান সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, নতুন প্রদেশ গঠনের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রগুলোতে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই আলোচনা প্রস্তাবিত ২৮তম সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রস্তুতির অংশ হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত ওই সরকারি কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে এটি কবে বাস্তবে রূপ নিতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
তার মতে, নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা বাস্তবায়ন সহজ হবে না। কারণ এ বিষয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য তৈরি করা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। দলগুলোর অধিকাংশই এ ধারণার বিরোধিতা করছে বলে মনে হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন প্রদেশ গঠন করা হবে কি না এবং হলে কতটি প্রদেশ প্রয়োজন, এর পরিবর্তে আরও প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা হবে কি না অথবা স্থানীয় সরকারব্যবস্থা পুনরায় চালু করে সেটিকে আরও ক্ষমতাবান করা হবে কি না।
সূত্রটির মতে, ১৮তম সংশোধনীর পর সৃষ্ট সমস্যাগুলো মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে নতুন প্রদেশ গঠন। এর মাধ্যমে প্রদেশগুলোর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর কেন্দ্রীয় সরকারের সামনে তৈরি হওয়া অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হতে পারে।
সম্প্রতি পাকিস্তান ইকোনমিক সামিট ২০২৬-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি নতুন প্রদেশ গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যাগুলো সমাধানে সব রাজনৈতিক দলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নয়নে নতুন প্রদেশ গঠনকে একমাত্র সমাধান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাবের পর সরকারি মন্ত্রীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে বিষয়টি আরও গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে দেশের শীর্ষ আইনজীবী সংগঠনগুলোর অবস্থানেও ভিন্নতা দেখা দেয়। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ) প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেয়।
অন্যদিকে পাকিস্তান বার কাউন্সিল (পিবিসি) জানায়, এমন কোনো উদ্যোগ নিতে হলে তা অবশ্যই সংবিধানের কাঠামোর মধ্যে, সংসদের মাধ্যমে এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে নিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি মুসাররাত হিলালির অবসর উপলক্ষে আয়োজিত ফুল কোর্ট রেফারেন্সে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসসিবিএর সভাপতি হারুনুর রশিদ নতুন প্রদেশ গঠনের প্রস্তাবকে সংগঠনের পক্ষ থেকে সমর্থন জানান।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত প্রদেশ গঠনের জন্য যেকোনো সাংবিধানিক পদক্ষেপ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে আরও ভালো শাসন নিশ্চিত করতে পারে। একই সঙ্গে এটি তৃণমূল পর্যায়ে সমতাভিত্তিক প্রশাসন, ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সমান সুযোগ এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করতে পারে।
তার মতে, আরও প্রদেশ গঠন মানুষের অর্থনৈতিক দুর্ভোগ কমিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও সহায়ক হবে।
অপরদিকে আইনজীবী সমাজের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন পিবিসি তাদের ২৫০তম বৈঠকে জানায়, সংবিধানসংক্রান্ত সব বিষয় অবশ্যই সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই সমাধান করতে হবে।
কয়টি নতুন প্রদেশ?
সরকারি ওই কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষায় ‘ভেঙে পড়া ব্যবস্থা’ মোকাবিলায় শেষ পর্যন্ত যদি নতুন প্রদেশ গঠনকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়, তাহলে পরবর্তী প্রশ্ন হবে, কতটি প্রদেশ গঠন করা হবে।
আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, করাচি ও গোয়াদরকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আনা হতে পারে। আর সিন্ধুর বাকি অংশ একটি প্রদেশ হিসেবেই থাকবে।
একইভাবে বেলুচিস্তানকে দুটি এবং পাঞ্জাবকে তিনটি প্রদেশে ভাগ করা হতে পারে।
তবে খাইবার পাখতুনখাওয়া (কেপি) নিয়ে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে জটিল। কারণ সাবেক ফেডারেলি অ্যাডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াস (ফাটা), অর্থাৎ কেন্দ্রশাসিত উপজাতীয় অঞ্চল, ইতোমধ্যে প্রদেশটির সঙ্গে একীভূত হয়েছে।
পাশাপাশি ফাটা ও প্রভিনশিয়ালি অ্যাডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াস (পাটা), অর্থাৎ প্রদেশশাসিত উপজাতীয় অঞ্চল ব্যবস্থার অধীনে আগে পরিচালিত এলাকাগুলোকে প্রাদেশিক সাংবিধানিক, আইনগত ও বিচারিক কাঠামোর আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে সূত্রটি জানিয়েছে, এরপরও কেপিকে পশতুন ও হাজারাসহ দুটি অঞ্চলে ভাগ করা হতে পারে।
শক্তিশালী হতে পারে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা
অন্যদিকে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য বরাদ্দ অর্থ প্রদেশগুলোর পরিবর্তে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের আমলে চালু করা স্থানীয় সরকারব্যবস্থা যদি বাধাহীনভাবে চালু থাকত, তাহলে স্থানীয় সমস্যাগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ বিপুলসংখ্যক কাউন্সিলর পাওয়া যেত।
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এখন সেই পর্যায়ের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং এমন একটি দল গড়ে তুলতে যথেষ্ট সময় লাগবে।’
সূত্র: ডন










