spot_img

সরকার ধর্মহীন ও নাস্তিক্যবাদী জাতি গঠনে কাজ করছে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, সরকার ধর্মহীন ও নাস্তিক্যবাদী জাতি গঠনে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ইসলামবিদ্বেষীদের নীল নকশা বাস্তবায়নে ধর্মীয় শিক্ষা বাদ দেয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় ইসলামী শিক্ষা না নিয়ে কেবলমাত্র সিলেবাসে রেখে শিক্ষামন্ত্রী জাতির সাথে ধোকাবাজি করছে।

আজ শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে চরমোনাই পীর বলেন, আমাদের সন্তানদেরকে নাস্তিক ও ধর্মহীন বানাতে দিতে পারি না। বিরানব্বই ভাগ মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা পূর্বের ন্যায় বহাল রাখতে হবে। প্রথম শ্রেণি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ইসলামী ও দীনিয়াত শিক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে হিন্দুত্ববাদ ও নাস্তিক্যবাদ প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত চলছে। ডারইউনের বিবর্তনবাদ সম্পূর্ণ নাস্তিক্যবাদী মতবাদ, এ শিক্ষা কোনভাবেই মুসলমানের দেশে চলতে পারে না। তিনি বলেন, মুসলমানদের তীব্র প্রতিবাদ সত্বেও সরকার নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে এদেশের ধর্মপ্রাণ জনতা জীবন ও রক্ত দিয়ে তা প্রতিহত করবে। পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বিরানব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামী শিক্ষা নিয়ে ষড়যন্ত্র করলে, দেশবাসী তাদের আজীবনের জন্য প্রত্যাখান করবে।

এসময় তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঘোষিত ১০ দফা দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান।

দাবিগুলো হলো; ১. শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়নে, অভিজ্ঞ, দ্বীনদার আলেমদেরকে সম্পৃক্ত করা। ২.শিক্ষার সর্বস্তরে ধর্মীয় শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও সকল পরীক্ষায় আবশ্যিক করা। ৩.ডারউইনের অপ্রমাণিত, ভ্রান্ত ও বিতর্কিত বিবর্তনবাদ শিক্ষার সকল স্তর থেকে বাদ দেওয়া। ৪.পাঠ্য পুস্তকের সকল বিষয় হতে অনৈসলামিক ও ইসলামী বিশ্বাস বিরোধী বিষয় ও শব্দসমূহ বাদ দেওয়া। ৫.ইসলাম ধর্ম শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ‘কুরআনুল কারীম’ শিক্ষাকে অন্তর্ভুক্ত করা। ৬.মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম, শিক্ষানীতিমালা-২০১০ অনুযায়ী মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট আলেম, দ্বীনদার শিক্ষকদের দ্বারা পূনর্মাজন করা। ৭.নৈতিকতা সমৃদ্ধ জনশক্তি তৈরির লক্ষে সকল ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য নিজ নিজ ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্থা করা। ৮.বাংলা, ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান ও ইতিহাস বই হতে বিতর্কিত ও ইসলামী আকিদা বিরোধী প্রবন্ধসমুহ বাদ দেওয়া। ৯.স্কুল ও মাদরাসার সকল পাঠ্যপুস্তক অপ্রয়োজনীয় এবং অশ্লীল চিত্রমুক্ত রাখা। ১০. যেহেতু এদেশের সাধারণ জনগণই এদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যয়ভারের সিংহভাগ বহন করেন, সেহেতু জোর করে চাপিয়ে দেয়া শিক্ষা ব্যবস্থা নয় বরং এদেশবাসীর ধর্মীয় চেতনার অনুকুল শিক্ষাব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ