কুমিল্লায় নিখোঁজের পর ১৩ বছরের শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা দেশে শিশু নিখোঁজ ও হত্যার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে নিখোঁজের পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যের ভিত্তিতে আসকের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আসকের হিসাবে, জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ১৫৫ শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।
চলতি বছরে নিখোঁজের পর মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ধর্ষণের পর হত্যা, শারীরিক নির্যাতনে মৃত্যু এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে হত্যার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো কোনো ঘটনায় পরিচিত ব্যক্তি বা স্বজনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
আসকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫৫ শিশুর মধ্যে শারীরিক নির্যাতনে ৬৮, পারিবারিক পরিসরে নির্যাতনে ৪৯, ধর্ষণের পর হত্যায় ২৬, ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যায় চার, গুলিতে তিন, গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করা অবস্থায় শারীরিক নির্যাতনে দুই, উত্ত্যক্তকারীর হাতে দুই এবং অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছে এক শিশু।
এছাড়া আত্মহত্যা, রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধারের ৯৯টি ঘটনার তথ্যও রয়েছে আসকের হিসাবে।
শুধু শিশুহত্যা নয়, দেশে সামগ্রিক হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে দেশে ২ হাজার ৩৬২টি হত্যা মামলা হয়েছে। সে হিসাবে মাসে গড়ে ২৯৫টি হত্যা মামলা হয়েছে।
আসক জানায়, শিশুহত্যার পাশাপাশি নিখোঁজের ঘটনাও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজারের বেশি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩ সেপ্টেম্বর পুলিশ সদর দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৭ শতাংশের বেশি, অর্থাৎ ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে বা তারা পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু, যা মোট সংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।
বাংলাদেশে শিশুদের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে ২২ মে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির তৎকালীন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এসব ঘটনায় দায়মুক্তির অবসানের আহ্বান জানান।
ঘর, প্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি পরিসরে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেয় ইউনিসেফ। একই সঙ্গে অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা, শিশুবান্ধব পুলিশ ও বিচারপ্রক্রিয়া, স্থানীয় পর্যায়ে সুরক্ষা সেবা এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার ঘাটতি দূর করার কথা বলা হয়। স্কুল, মাদরাসা, কর্মক্ষেত্র ও অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করে সংস্থাটি।











