spot_img

অবৈধভাবে টাকা না কামিয়ে রিকশা চালাই; তবুও দুর্নীতিতে জড়াইনি: ছাত্রলীগ নেতা

পাবনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-নাট্য বিতর্ক সম্পাদক সোহানুর রহমান সোহান বলেছেন, ডিগ্রিতে ভর্তি হয়েও আর্থিক অনটনের কারণে আর পড়া হয়নি। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় চলে আসি। অন্য কোনো কাজ না পেয়ে শেষমেশ রিকশা চালানো শুরু করি। প্রায় দুই বছর ধরে ঢাকার মিরপুরে রিকশা চালাচ্ছি। অনেকেই চুরি, ডাকাতি, টেন্ডারবাজি করছে। চাইলে আমিও অবৈধভাবে টাকা কামাতে পারতাম। কিন্তু তা করিনি। আমার কোনো কাজের জন্য দলের বদনাম হোক এটা কখনো চাইনি। ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন। তার আদর্শ মেনেই রাজনীতি করছি।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমার দাদা আওয়ামী লীগের বড় নেতা ছিলেন। তার মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কথা শুনেছি। তার আদর্শ মেনেই রাজনীতি করি। রাজনীতি আমার রক্তে মিশে আছে। এটি আমার পেশা নয়, নেশা। করোনা মহামারীর সময় ঘরে খাবার ছিল না। আমার ঘরের দরজা লাগানোর জন্য বাবার জমানো টাকা চুরি করে মুজিব শতবর্ষ পালন করেছিলাম।

সোহান আরও বলেন, আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন, ছাত্রলীগ থেকে যেমন বীর সেনা তৈরি হয়, ঠিক তেমনি বেইমানও জন্ম নেয়। আওয়ামী লীগের মধ্যেও মুশতাকদের মতো লোক আছে বলেই আজ আমার মতো ছাত্রনেতা রিকশা চালাচ্ছে। আমাদের মতো নেতারা অভিমানী হয়, কখনো বেইমানি করে না। যারা রাজনীতিতে আসতে চান, তাদের বলব— পেশা হিসাবে নিলে রাজনীতিতে আসার দরকার নেই।

সোহান বলেন, পাবনা-২ আসনের সাবেক এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজুর অধীনে আমি রাজনীতি করেছি। আমার এই অসময়ে তাকে অসংখ্য এসএমএস দিলেও কোনো সাড়া পাইনি। আসলে আমাদের মতো ছাত্রনেতাদের সবাই ব্যবহারই করেন। আমাকে বিভিন্নজন আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু তা বাস্তবায়ন করেননি। এতদিন পর বুঝলাম, নিজের কাজ নিজেকেই করতে হবে। তাই রিকশা চালানো শুরু করেছি।

সোহানুর রহমান সোহান বর্তমানে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতির পদেও আছেন।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ