ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের হাতে ধরে চালু হলো আফগানিস্তানের ইতিহাসের প্রথম জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতাল।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) কাবুলে হাসপাতালটির উদ্বোধন হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় দেশটিতে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের উপপ্রধান বেঞ্জামিন ভিন্টজ, নারী ও শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য একটি কার্যকর স্থান বজায় রাখার গুরুত্বের উপর জোর দেন।
আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তার প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, “মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীরা যেখানে অব্যাহত পরিষেবা দিবেন এবং যেখানে মহিলা ও শিশুরা মৌলিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিষেবা পাবে, সেই অপারেটিং স্থান সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরী।
এছাড়াও বলেন, “এই ক্ষেত্রে সহায়তাকে সাদরে স্বাগত জানানো হবে। ইইউ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য খাতে মানবিক এবং অত্যাবশ্যকীয় চাহিদা উভয় তহবিলের মাধ্যমে সহায়তা করে আসছে, যার বর্তমান মূল্য ৮৬ মিলিয়ন ইউরো।”
অপরদিকে আফগান জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী নূর জালাল জালালি দেশে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য ইমারাত সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি নতুন হাসপাতালে ডাক্তারদের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুরও ঘোষণা দেন।
এছাড়াও জানান, ভারত ১০ টন ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ সরবরাহ করেছে যার মূল্য ১০ মিলিয়ন ডলার এবং আশা করা হচ্ছে যে, এটি হাসপাতালটিকে রেডিওথেরাপির সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।
ক্যান্সার রোগীদের সহায়তায় এগিয়ে আসার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমি সকল ব্যবসায়ী ও দাতব্য সংস্থাকে ক্যান্সার রোগীদের সহায়তার আহ্বান জানাচ্ছি।”
“ক্যান্সার অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসাত্মক এবং বেসরকারি খাতের সহায়তা প্রতিবেশী দেশগুলোতে রোগীদের চিকিৎসা ও যত্নে বড় ভূমিকা পালন করে” বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আফগানিস্তানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. এডউইন সালভাদর অনুষ্ঠানে ক্যান্সার রোগীদের অতীতের চ্যালেঞ্জগুলো কেমন ছিলো তা তুলে ধরেন। কাবুলের বাইরেও অনকোলজি পরিষেবা সম্প্রসারণ এবং হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অব্যাহত সহায়তার আশ্বাস দেন।
তিনি বলেন, “এটি সমগ্র দেশের জন্য একটি রেফারেল সেন্টার, যা সকল প্রদেশের রোগীদের সেবা প্রদান করবে। আগামীতে হাসপাতালটিকে ২০০ শয্যায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, অবকাঠামোর বাইরেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) দক্ষ কর্মী এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর জোর দিয়ে থাকে। এর অংশ হিসেবে আফগানিস্তান জুড়ে ৬০ এর অধিক ডাক্তার, নার্স ও ফার্মাসিস্টকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে কাবুলে অনলাইনে এবং হাতে-কলমে অনকোলজি, কেমোথেরাপি এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ারের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনে আসা ক্যান্সার রোগীদের পরিচর্যাকারীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন।
আমানুল্লাহ নামের একজন ক্যান্সার রোগীর পরিচর্যাকারী বলেন, “আমরা আমাদের রোগীদের পাকিস্তানে নিয়ে যেতাম। এখন তাদের সমস্যাগুলো এখানেই সমাধান করা সম্ভব হবে। ইমারাতে ইসলামিয়ার সরকার যদি আমাদের ওষুধ দিয়েও সহায়তা করে, তাহলে এটি আমাদের জন্য অনেক বড় সহযোগিতা হবে।”
ঈদ মোহাম্মদ আরেক পরিচর্যাকারী বলেন, “ইমারাতে ইসলামিয়ার সরকার যদি সব প্রদেশ এবং অঞ্চলে যদি ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়, তবে তা সকলের জন্য আশীর্বাদ হবে।”
এছাড়া ইমারাতে ইসলামিয়া সরকারের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দেশের প্রথম ক্যান্সার হাসপাতাল চালু হওয়ায় আফগান ক্যান্সার রোগীদের বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন ক্রমেই ফুরিয়ে আসবে।
সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, কাবুলের প্রশাসনিক সংস্কার ও সিভিল সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন ভবনে আফগানিস্তানের ইতিহাসের প্রথম জাতীয় ক্যান্সার হাসপাতালটি চালু করা হয়েছে। ক্রমেই একে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট ক্যান্সার হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।
সূত্র: তলো নিউজ











