রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও ঢাকা ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে তাদের সেবা নিশ্চিতের জন্য তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি।
সোমবার (১৫ মার্চ) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান কার্যালয়ের নগর ভবনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী চলমান ‘নিরাপদ পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনা: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি ওই দুই সংস্থাকে এ তাগিদ দেন।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামাল, ইউনিসেফের ওয়াশ বিভাগের প্রধান জাইদ জুরজি, রাজউকের চেয়ারম্যান এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী, এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান ও ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএনসিসি মেয়র প্রধান অতিথিকে নিয়ে স্টলগুলো পরিদর্শন করেন এবং স্টল পরিদর্শন শেষে প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন।
প্যানেল আলোচনায় ঢাকার স্যুয়ারেজ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে ওয়াসা-রাজউকের দায় এড়ানোর চেষ্টায় তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সালমান এফ রহমান। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ওয়াসা, রাজউক না সিটি করপোরেশনের। পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে না বলেও জানান তিনি। এ সময় সেবা না দিয়ে ওয়াসার অর্থ আদায় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উপদেষ্টা। সঙ্গে সঙ্গে হল ভর্তি দর্শকরা হাততালি দিয়ে সালমান এফ রহমানকে সমর্থন জানান। এ সময় তোপের মুখে পড়েন ওয়াসা ও রাজউকের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
রাজধানীজুড়ে বেহাল স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য নিষ্কাশনে ব্যর্থতা আর পানি সরবরাহে দীর্ঘদিনের জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন ক্ষোভ ওয়াসার বিরুদ্ধে তোলেন আলোচকরা। তবে এসব প্রশ্নের যথাযথ কোনো উত্তর দিতে পারেননি ওয়াসা কর্মকর্তারা। স্বীকার করেন অর্থ আদায়ের বিষয়টিও। এ সময় নগর ব্যবস্থাপনায় একে অন্যের ওপর দোষ চাপানোর সংস্কৃতি বন্ধের আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতারা। ক্ষোভ জানান উপস্থিত কাউন্সিলররা।
অনুষ্ঠানে বাড়ির মালিকদের নিজ উদ্যোগে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার সঙ্গে বস্তিগুলোতে সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতা রয়েছে বলেও আলোচনায় উঠে আসে।











