রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে শীতকালীন সহায়তা প্রদান করলো দাওয়াহ ও সেবামূলক সংগঠন ফিকরুল উম্মাহ বাংলাদেশ।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) টেকনাফ, ২৪ নং রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে এই সহায়তা কর্মসূচি পালিত হয়।
দাওয়াহ ও সেবামূলক সংগঠনটির চেয়ারম্যান মাওলানা সাকিব আল হাসান সাইফী জানান, ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এতে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গারা মাথাগোঁজার উপযুক্ত ঠাই হারিয়েছেন। তাদের জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পুড়ে গিয়েছে। তারা প্রচণ্ড শীতে কষ্ট পাচ্ছেন। পলিথিন ও ত্রিপলের সমন্বয়ে তাঁবু বানিয়ে কোনোমতে নিজেদের থাকার ব্যবস্থা করেছেন।
সহায়তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ফিকরুল উম্মাহ বাংলাদেশ একটি দাওয়াহ ও সেবা মূলক সংগঠন। দাওয়াহ ও মানবসেবার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এর প্রধান লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় তারা এগিয়ে এসেছেন এবং রোহিঙ্গা ভাইদের শীত জনিত কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করেছেন। তাদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন।
মাওলানা সাইফী ফিকরুল উম্মাহ বাংলাদেশের এই সহযোগিতা যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে বলেন, রোহিঙ্গা ভাইদের আরো বিভিন্ন ধরণের সহযোগিতা প্রয়োজন। যেমন, তাদের উপযুক্ত ঘর প্রয়োজন, যার প্রতিটির নির্মাণ ব্যয় আনুমানিক ৬০ হাজার টাকা। এজন্য তিনি সকলকে এগিয়ে আসার আহবানও জানান।
ফিকরুল উম্মাহ বাংলাদেশের এই সহায়তা কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আন নূর ইনস্টিটিউট বান্দরবানের সহকারী পরিচালক মাওলানা তরিকুল ইসলাম, রোহিঙ্গা প্রতিনিধি ও খালেদ বিন ওয়ালিদ ( রাঃ) মাদরাসা, টেকনাফ এর পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন, ফিকরুল উম্মাহর কক্সবাজার প্রতিনিধি হাফেজ কামাল সাদেক ও জনাব শফিউল করিম শফি, প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর, রবিবার রাতে মোবাইলের চার্জার বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও আলীখালীর ২৪ ও ২৫ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ৬০ এর অধিক ঘর পুড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট প্রায় ২ ঘন্টার চেষ্টায় এই আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক সৈয়দ মো. মোরশেদ হোসেন চার্জার বিস্ফোরণ থেকে দ্রুত আগুন ছড়ানোর কারণ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের বসতিগুলো ত্রিপল ও বাঁশের হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।











