আমেরিকার জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ও আন্তর্জাতিক স্কলার প্রফেসর জোনাথন এ. সি. ব্রাউন ঢাকা সফর করেছেন। ব্রিটেনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিএমআরআই)-এর আমন্ত্রণে পাঁচ দিনের এ সফর করেন তিনি। সফরকালে প্রফেসর জোনাথন বাংলাদেশের আলেম-ওলামা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও তরুণ গবেষকদের সঙ্গে সভা-সেমিনারে অংশ নেন।
মঙ্গলবার (৬ মে) বিএমআরআই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
জোনাথন এসি ব্রাউন তাঁর বর্ণবাদ ও দাসপ্রথা বিষয়ক মৌলিক গবেষণার জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। তবে মুসলিম বিশ্বে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ইমাম বুখারীর হাদিস সংকলনের ওপর তার কালজয়ী কাজ ‘দ্য ক্যানোনাইজেশন অব আল-বুখারি অ্যান্ড মুসলিম’-এর জন্য।
‘দ্য অক্সফোর্ড এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলাম অ্যান্ড ল’-এর প্রধান সম্পাদক প্রফেসর জোনাথন তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে হাদিস, ইতিহাস ও সিরাত বিষয়ে গবেষণার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, মিশর, সিরিয়া, তুরস্ক, ইরান, ইন্দোনেশিয়া ও ভারতসহ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন। এবার তিনি ভ্রমণে এলেন বাংলাদেশে।
সফরের প্রথম দিন গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মোজাফফর আহমদ চৌধুরী অডিটরিয়ামে এক উন্মুক্ত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর জোনাথন। এ দিন বিকেলেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও গবেষকদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন।
সফরের দ্বিতীয় দিন গত ১ মে (শুক্রবার) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজ আদায় করেন তিনি। নামাজ শেষে মসজিদের খতিব ও দেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ মাওলানা আব্দুল মালেকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রফেসর জোনাথন। এসময় তারা গ্রন্থ বিনিময় করেন। এরপর তিনি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের দাওয়াহ ও রিসার্চ সেন্টার পরিদর্শন করে তরুণ আলেমদের উদ্দেশে লেকচার প্রদান করেন।
পরে গত শনিবার (২ মে) সকালে বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিউট, ইউকের আয়োজনে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে তরুণ চিন্তক ও গবেষকদের নিয়ে প্রফেসর ব্রাউন একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেন। এতে সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে ইসলামী ঐতিহ্যের ব্যাখ্যা, ইসলামি শরীয়া ও আইন নিয়ে তরুণদের সাথে কথা বলেন।
এদিন বিকেলে একই হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, গবেষক ও আলেম উলামাদের সঙ্গে বাংলাদেশের ইসলামিক স্টাডিজের ধারা ও প্রবণতা নিয়ে মতবিনিময় করেন।
এ সময় আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল মুসলিম রিসার্চ ইনস্টিউট-এর কো-ফাউন্ডার ড. কামরুল হাসান ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইসলামী গবেষক শেখ ফয়জুল ইসলাম।
ড. কামরুল তার বক্তব্যে দুই বাংলার মুসলিমদের সোনালি ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেন এবং ঢাকাকে সাউথ এশিয়ার অন্যতম ইসলামিক ইন্টেলেকচুয়াল হাব করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শেখ ফয়জুল ইসলাম বাংলাদেশের সাথে মুসলিম বিশ্বের ও পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামী জ্ঞানের জগতের আদান প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে গোষ্ঠী চিন্তার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করার আহ্বান করেন।
সফরের শেষ দিন রবিবার (৩ মে) সকালে জোনাথন ব্রাউন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে তেরো শতকের প্রখ্যাত পণ্ডিত শরফুদ্দিন আবু তাওয়ামা (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন। দুপুরে তিনি বাংলা একাডেমি পরিদর্শন করেন এবং প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।











